Monday, June 23, 2014

ব্রাজিল বাদ পড়ে যাবে, যদি...

জুয়াড়িরা বোধ হয় দুয়ো দিয়ে কুল পাচ্ছে না এবারের বিশ্বকাপকে। এবারের বিশ্বকাপ যে জন্ম দিয়ে চলেছে একের পর এক ছোট-বড় বিস্ময়ের। গ্রুপের সমীকরণ এমন জায়গায় পৌঁছেছে, ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা থেকে একেবারেই মুক্ত নয় ব্রাজিল।
বাংলাদেশ সময় রাত দুটোয় একই সঙ্গে মাঠে গড়াবে ব্রাজিল-ক্যামেরুন আর মেক্সিকো-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ দুটি। চার দলের মধ্যে ক্যামেরুনের বিদায়ই শুধু নিশ্চিত হয়েছে আগে। বাকি তিন দলের প্রত্যেকের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ তো থাকছেই, এমনকি তিন দলের যে কেউ হতে পারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।
ব্রাজিল যদি জেতে
ব্রাজিল জিতলে তো কথাই নেই। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত। তবে জয়ও কিন্তু তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না। ব্রাজিলের পাশাপাশি মেক্সিকোও জিতলে এই দুই দলের পয়েন্ট হয়ে যাবে সমান (৭)। তখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে গোল ব্যবধানে। ব্রাজিল-মেক্সিকোর মধ্যে এখন গোল ব্যবধানের পার্থক্য মাত্র এক গোলের। মেক্সিকো নিশ্চয়ই আফসোস করছে এই ভেবে, ক্যামেরুনের বিপক্ষে বৈধ দুটো গোল লাইন্সম্যানের ভুলে বাদ না হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন তো আমরাই হতাম!
ব্রাজিল যদি ড্র করে
বিশ্বকাপে টিকে থাকতে ব্রাজিলকে ক্যামেরুনের বিপক্ষে পরাজয় এড়াতে হবে। ড্র করলেও অপর ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ব্রাজিল স্থান করে নেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। তবে ড্র করলে অনিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের দিকে।
ব্রাজিল যদি হেরে যায়
নব্বইয়ের সেই ভূত হুট করে ক্যামেরুনের ওপর ভর করে যদি ব্রাজিলকে আজ সত্যিই হারিয়ে দেয়, তাহলে দ্বিতীয় পর্বের জন্য ব্রাজিলের একমাত্র টিকিট হবে মেক্সিকোর জয়। সমস্যা হলো, ব্রাজিল যদি হারে আর মেক্সিকো-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ড্র হয়, তাহলে ব্রাজিলের বিদায় হয়ে যাবে। তখন মেক্সিকো ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চলে যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া দুদলেরই পয়েন্ট সমান হবে, গোল ব্যবধানে এগিয়ে যাবে ক্রোয়েশিয়া।
মেক্সিকো-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ড্র হলে
মেক্সিকো ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র করলেও ব্রাজিলের জন্য সেটা খুব মন্দ হবে না। গোল ব্যবধান বিবেচনায় ক্যামেরুনের বিপক্ষে ড্র করলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ড খেলবে ব্রাজিল। আর ক্যামেরুনকে হারালে কোনো শঙ্কাই থাকবে না। মেক্সিকো-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটি ড্র হলে ব্রাজিল হেরে গেলেই বাদ।
ক্রোয়েশিয়া জিতে গেলে
ক্রোয়েশিয়া জিতে গেলে ক্যামেরুনের বিপক্ষে হারলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে ব্রাজিল। তবে ২-০ বা এর বড় ব্যবধানে হারলে অনিশ্চিত হয়ে যাবে।
মেক্সিকো জিতে গেলে
মেক্সিকো জিতলে ক্যামেরুনের বিপক্ষে হারলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে ব্রাজিল। সে ক্ষেত্রে গোল ব্যবধানের কোনো হিসাবই আর দরকার পড়বে না।
ব্রাজিল সমর্থকেরা তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। অন্য ম্যাচটির ফলাফল যা-ই হোক, সেটি ব্রাজিলের পক্ষেই যাবে। এমনকি ব্রাজিল ড্র করলেও ক্ষতি নেই। ফলে ব্রাজিলের বাদ পড়ার আশঙ্কা নিতান্তই ক্ষীণ। সমস্যা হলো, ব্রাজিল তো শুধু দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চায় না, তাদের হতে হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। কারণ দ্বিতীয় রাউন্ডে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে হল্যান্ডকে কেই বা চায়।
নেইমারদের তাই এতসব হিসাব-নিকাশে মাথা না গলিয়ে ক্যামেরুনের বিপক্ষে জয় তুলে নিলেই সব ল্যাঠা চুকে যাক।
point_table_groupA

রায়ে খুশি স্বজনেরা, চান দ্রুত কার্যকর

রমনা বটমূলে বোমা হামলার দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া গ্রামের নিহতদের স্বজনেরা। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে বাউফলের গাজী বাড়ির তিনজন ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আল মামুন, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও জান্নাতুল ফেরদৌসী শিল্পী। তাঁরা চাচাতো ভাইবোন।
রায় শোনার জন্য সকাল থেকেই গাজী বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন আশপাশের লোকজন। নিহত আল মামুনের মা নূরজাহান বেগম (৭০) রায় শোনার জন্য ঘরে টেলিভিশনের সামনে অধীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্য স্বজনেরাও। রায় শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে যান সন্তানের কবরে, মোনাজাত করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত মামুনের বাবা কাসেম গাজী (৮০) বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষা করেছি এই রায়ের জন্য। আজ রায় হলো। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি, কবরে যাওয়ার আগে যেন এই রায় কার্যকর দেখে যেতে পারি।’
মামুনের বড় ভাই মাসুদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সহায়তা দেওয়ার কথা, তা আমরা পাইনি। ভাইসহ আমাদের বাড়ির তিনজনকে হারালাম। পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত মামুন, রিয়াজ ও শিল্পীর কবরের ইটও খসে পড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেখার কেউ নেই। তার পরও শান্তি পাব, যদি এই রায় দ্রুত কার্যকর হয়।’
এলাকার লোকজন বাউফলের নিহত তিনজনের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনকে আজ ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

লিবিয়ায় মিসাইল হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

লিবিয়ার বেনগাজি শহরে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানার আবাসিক ক্যাম্পে শনিবার রাতে মিসাইল হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সেখানকার ৩২ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বেনগাজিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন বাংলাদেশি মারা যান। আহত হন কয়েকজন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে লিবিয়ায় অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে গত মার্চ থেকেই সতর্কভাবে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছে  সেখানকার বাংলাদেশি দূতাবাস। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বেনগাজিতে অবস্থানরত ২৫ হাজার বাংলাদেশিকে সাবধানে থাকতে বলেছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুন শনিবার রাতে লিবিয়ার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টায় বেনগাজি শহরের সামা লিবিয়া নামের একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানার আবাসিক ক্যাম্পে মিসাইল হামলায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মোহাম্মদ মিলন ও মোহাম্মদ স্বপন মারা যান। তাঁরা দুজন ভাই। এ ঘটনায় আরও দুজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম নামের একজনকে চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একজন কামালের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি আজ সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, শনিবার কাজ শেষে তাঁরা কোম্পানির আবাসিক ক্যাম্পে ছিলেন। হঠাত্ বিকট শব্দে একটি মিসাইল ক্যাম্পের পেছনের দেয়ালে আঘাত করে। সে সময় ওই কক্ষে চারজন বাংলাদেশি ছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মরদেহ বেনগাজি মেডিকেল সেন্টারের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে বাকিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার লিবিয়া। তবে ২০১১ সালে দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর ৩৬ হাজার বাংলাদেশি ফিরে আসেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত দুই বছরে ২১ হাজার বাংলাদেশি নতুন করে সেখানে গেছেন। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে সেখানে প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি আছেন। এর মধ্যে একটা বড় অংশই আছেন রাজধানী ত্রিপোলি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরের শহর বেনগাজিতে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেখানে ইসলামপন্থী ও ন্যাশনাল আর্মি নামের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। উভয় পক্ষই ভারী আগ্নেয়াস্ত্র, স্বল্প পাল্লার মিসাইল নিয়ে যুদ্ধ করছে। প্রায়ই এসব গুলি ও মিসাইল লক্ষ্যচ্যুত হয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বেনগাজিতে বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে বরগুনার আবুল কালাম ও পিরোজপুরের শফিকুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই মাসেই বেনগাজি থেকে একদল বাংলাদেশিকে অপহরণ করা হয়, যদিও পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ২২ মার্চ বেনগাজিতে অস্ত্রধারীদের গুলিতে শেরপুরের সুমন আলী, ভোলার জসিমউদ্দিন ও নড়াইলের মোহসিন আহত হন। এর মধ্যে সুমন আলী পরে মারা যান। ১২ মার্চ একজন ভারতীয় চিকিত্সককে ও ২২ মার্চ সাতজন মিসরীয়কে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় লিবিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। গত এক বছরে এভাবে শতাধিক বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়।
আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী প্রথম আলোকে জানান, রাজনৈতিক সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আঞ্চলিক ও উপদলীয় বিরোধে প্রায়ই লিবিয়ায় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব বাংলাদেশি নাগরিককে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শিশুপল্লী নাকি শিশুস্বর্গ!

দিয়ার দ্বিতীয় জন্মদিন। কেক আনা হয়েছে। কেকের ওপর মোমবাতি। বারবার নিভিয়ে ফেলছে দিয়া। ওর ‘মা’ বলছেন, ‘নিভিয়ো না।’ বলতে না বলতেই আবার ফুঁ। কে শোনে কার কথা!
এরপর ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’ গাইতে গাইতে কেক কাটা হলো। দিয়াকে আদর করতে করতে তাকে ঘিরে নাচ শুরু করলেন তাঁর ‘মা-বোনেরা’। সবার মুখেই হাসি।
শ্যামলীর এসওএস শিশুপল্লীর চিত্র এটি। এখানেই ‘মা’ ও ‘বোন’ পরিবেষ্টিত হয়ে বেড়ে ওঠে দিয়ার মতো অনেক শিশু। এটি তাদের কাছে শুধু শিশুপল্লি নয়; শিশুস্বর্গ।
‘মা’ ও ‘বোন’ শব্দ দুটি বন্ধনী চিহ্ন দিয়ে আটকে দেওয়ার মানে হলো, যাদের মা কিংবা বোন মনে করে দিয়ার মতো এখানকার অনেক শিশু বড় হয়, রক্তের সম্পর্কে তাঁরা তাদের মা কিংবা বোন নন। তবে মা-বোনের অভাব তাদের বুঝতে দেওয়া হয় না। শিশুপল্লীর যে নারী কর্মীর হাতে বাচ্চার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তিনি তাকে নিজের সন্তান মনে করেই বড় করে তোলেন।
আজ ২৩ জুন সংস্থাটি আন্তর্জাতিক এসওএস শিশুপল্লী দিবস পালন করে। এ উপলক্ষে এসওএসে সারা বাংলাদেশের শিশুপল্লীতে নানা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বর্গের দেবশিশুরা
দিয়ার পুরো নাম আফরিন হাফসা দিয়া। অনেক ভাইবোনের ঘরে জন্ম নেওয়ায় অভাবের কারণে দিয়ার জায়গা হয়নি নিজ পরিবারে। ঠাঁই হয়েছে শ্যামলীর এসওএস শিশুপল্লীতে। ও বেড়ে উঠছে ‘কৃত্রিম’ মা-বোনদের আদরে। কিন্তু দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। নিবিড় মমতায় স্নেহ শীতল পরিবেশে একেকজন ‘মা’ গড়ে তুলছেন প্রিয় ‘সন্তান’কে।
হারম্যান মেইনার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিয়া নাসরিন নবনী। জন্মের আধা ঘণ্টা পর তার ঠাঁই হয় শ্যামলীর শিশুপল্লীতে। কোথায় তার বাড়ি, কে তার বাবা-মা, জানে না সে। কিন্তু তাই বলে ওর মনে এতটুকু দুঃখ নেই। সে বলল, ‘এখানে খুব ভালো আছি। মা-বোনদের আদরে আছি। কোনো কিছুরই অভাব নেই।’
চট্টগ্রামের মেয়ে সাজিয়া আফরিন। মা মারা যাওয়ার পর সাত বছর বয়সে এখানে এসেছে ও। এখন সাজিয়া হারম্যান মেইনারে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বলল, শিশুপল্লীতে থাকতে খারাপ লাগে কম, বেশি সময়ই ভালো লাগে।

সর্বজনীন শিশুপল্লি
আমাদের দেশে সাধারণত এতিমখানা বলতে যা বোঝায় এসওএস শিশুপল্লী তার চেয়ে একদম আলাদা।
এটি একটি বেসরকারি, অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক শিশুকল্যাণমূলক সংস্থা, স্নেহশীল নিবাস; যা জাতি, ধর্ম ও গোষ্ঠী-নির্বিশেষে পিতৃ-মাতৃহীন ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন করে। তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুত করে। পরবর্তী জীবনে তারা নানাভাবে সমাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এই শিশুপল্লী থেকে বেড়ে উঠে জীবনে সফল হয়েছেন এমন একজন সাকিনা সুলতানা। এখন তিনি ‘ওয়াক ফর লাইফ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। সেখানে তিনি জন্মগতভাবে যেসব শিশুর পায়ে সমস্যা, তাদের সারিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি জীবনকে সহজভাবে মেনে নিয়ে বাঁচতে শেখান। তাঁর মতো অনেকে উন্নয়নকর্মী, চিকিত্সক, সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসে গিয়ে উন্নত জীবনযাপন করছেন।

শিশুপল্লীর ধারণাটি যেভাবে এলো
খেলাধুলায় মত্ত এসওএস শিশুপল্লীর সোনামণিরা ছবি: এসওএস শিশুপল্লীর সৌজন্যে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে অনেক শিশু মাতৃ-পিতৃহীন হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি নিয়ে উদিগ্ন হয়ে পড়েন অস্ট্রিয়ার নাগরিক অধ্যাপক হারম্যান মেইনার। তাঁর মনে বারবার দোলা দিতে থাকে, কী করা যায়। এরপর ১৯৪৯ সালে তাঁর দেশের ইমস্ট নামক এলাকায় প্রতিষ্ঠা করলেন একটি শিশুপল্লি। পরবর্তী সময়ে নাম হয় এসওএস শিশুপল্লী। প্রধানত মা, ভাই-বোন, বাসস্থান ও শিশুপল্লী এই চারটি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে সংস্থাটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
ঢাকার শ্যামলী, মিরপুর, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম প্রভৃতি জায়গা শিশুপল্লি এবং অন্য পাঁচটি এলাকায় যুবপল্লি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসওএস শিশুপল্লীতে এক হাজার ৯৯ জন শিশু লালিত-পালিত হচ্ছে।
২০১৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, এসওএস শিশুপল্লীর প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে ৮২ হাজার ১০০ জনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি পরিচালিত হয় হারম্যান মেইনার তহবিল, বিশ্বব্যাপী অসংখ্য বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায়। কেউ সহায়তা করতে চাইলে শিশুপল্লীর নির্ধারিত ফরম পূরণ করে করতে পারেন। সাধারণত চার বছর বয়সী অনাথ ছেলেমেয়েকে শিশুপল্লীতে ভর্তি করে নেওয়া হয়। বাচ্চার আত্মীয় বা অন্য কেউ শিশুপল্লীতে এসে আবেদন করতে পারেন। এরপর তদন্তসাপেক্ষে শিশুটিকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রমও আছে। এ ছাড়া কোনো পরিবার বাচ্চাকে কাছে রাখতে চায় অথচ পড়াশোনা করানোর সংগতি নেই; সেসব বাচ্চাকেও সহযোগিতা করে এসওএস।

নূর হোসেনকে ফেরত চেয়ে আবেদন ভারতে নথিভুক্ত

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফেরত চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা আবেদন নথিভুক্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। তবে তাঁর পক্ষে আজ কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। কিংবা রিমান্ডে নেওয়ারও আবেদন করা হয়নি।

ফলে আদালত আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ৭ জুলাই তাঁদের আবারও আদালতে তোলা হবে। আট দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে তোলা হয়। এ উপলক্ষে সকাল নয়টার দিকে তিনজনকে বাগুইআটি থানা থেকে দেশবন্ধু নগর সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।

সেখানে গাড়ি থেকে নামানোর পর নূর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চক্রান্তের শিকার। এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত।’
চক্রান্তের পেছনে কারা রয়েছে—সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আপনারা খুঁজে বের করুন।’
র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি জানি না।’
নূর হোসেনের সঙ্গীদের একজন সুমন খান বলেন, ‘আমি পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এসেছি। তবু আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইআটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন। বাগুইআটি থানার সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।
পরদিন গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
৮ জুন ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট মাসিক ২০ হাজার টাকায় দুই মাসের জন্য ভাড়া নেন নূর হোসেন।
নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার পর ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠেন।
আদালতের নির্দেশ পেয়ে এটিএস সদস্যরা নূর হোসেনকে উত্তর বিধাননগর থানায় নিয়ে জেরা করেন। তিনি কীভাবে, কার সাহায্যে, কোন সীমান্তপথে, কোন দালালের হাত ধরে কলকাতায় এসেছেন—তা জানার চেষ্টা করেছে এটিএস।
এ ছাড়া ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠার ক্ষেত্রে নূর হোসেন কাদের সহযোগিতা নিয়েছেন, এ কাজে কলকাতার কোন কোন ব্যক্তি জড়িত—জেরায় তাও জেনে নিয়েছেন এটিএসের সদস্যরা।
গতকাল রোববার বিকেলে বাগুইআটি থানার আইসি দেবব্রত ঝা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আট দিনের রিমান্ড শেষে নূর হোসেনকে কাল (আজ) বারাসাত আদালতে তোলা হবে।

মুফতি হান্নানসহ ৮ জনের ফাঁসি

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন।
হামলার ১৩ বছর পর এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হলো। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন।

মৃত্যুদণ্ড: মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামি হলেন মুফতি হান্নান, তাজউদ্দিন, আকবর হোসাইন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন।

যাবজ্জীবন: যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ ইয়াহিয়া, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল।

পলাতক পাঁচজন: মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আট আসামির মধ্যে পাঁচজনই পলাতক। তাঁরা হলেন বিএনপির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, আবু বকর, শফিকুর ও আবদুল হাই পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ: রায় ঘোষণার পর মহানগর সরকারি কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আপিল করবে আসামিপক্ষ: রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ। আসামিপক্ষ বলেছে, রায়ের কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষ। আয়োজক ছায়ানটও একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। দেশে অস্থিতিশীলতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য আসামিরা বোমা হামলা করেছিল। সাক্ষ্য ও দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ধরনের হামলা নিন্দনীয়। তাই আসামিদের প্রতি অনুকম্পা বা সহানুভূতি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।
১৬ জুন এই মামলার রায় দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রায় লেখা শেষ না হওয়ায় ওই দিন আদালত ২৩ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেন। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রায় পড়া শুরু করেন আদালত। ১২টার দিকে রায় পড়া শেষ হয়। এ সময় কারাগারে আটক থাকা আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ফিরে দেখা: রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।
২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলারই অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ আবু তাহের, আবদুর রউফ, সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, আকবর হোসাইন, তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

কীটনাশকে শিশুর অটিজমের ঝুঁকি


কীটনাশকের সঙ্গে শিশুর অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন একদল মার্কিন গবেষক।

আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারস্পেকটিভ’ সাময়িকীতে।

গবেষকদের দাবি, কীটনাশক ব্যবহার করা হয়—এমন খামারের পাশে বসবাসকারী গর্ভবতী মায়ের সন্তানের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দুই-তৃতীয়াংশ বেশি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা বিশ্বে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের হার বেড়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় খামারে বাণিজ্যিকভাবে কীটনাশক ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে অটিস্টিক শিশু রয়েছে—এমন পরিবারের এক হাজার মায়ের আবাসিক তথ্য।

প্রধান গবেষক ইরভা হার্ত্জ-পিচ্চিওতো বলেন, ‘গবেষণায় অংশ নেওয়া মায়েরা তাঁদের গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন কোথায় বাস করেছিলেন, আমরা তা শনাক্ত করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি, যে মায়েদের সন্তান অটিজমে আক্রান্ত হয়েছে বা তাদের (সন্তান) অবধারণ ও অন্যান্য দক্ষতা বিলম্বিত হয়েছে, তাঁরা এমন এলাকার কাছে বাস করেছেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে।’
গবেষকেরা বলেন, গর্ভধারণের দ্বিতীয় ও শেষ তিন মাসে কীটনাশক ব্যবহারে অটিজমের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

অন্য রকম এক বিশ্বকাপ


এবার বিশ্বকাপে বড় ও ছোট দলের পার্থক্য এতটাই কমে এসেছে যে দর্শকদের রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! কোস্টারিকা, কলম্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চিলি, ঘানার পারফরম্যান্স রীতিমতো বিস্ময়জাগানিয়া। অন্যবার দু-একটি ছোট দল হয়তো চমক দেখায়, তবে একসঙ্গে এত দল নয়! আর এ কারণেই বিশ্বকাপের ১১ দিন পেরিয়ে, প্রথম পর্বের দুটি চক্র শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিশ্চিত হয়নি দ্বিতীয় রাউন্ডের অধিকাংশ জায়গা। কেবল ‘বি’ গ্রুপ থেকেই নিজেদের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে হল্যান্ড ও চিলি। বাকি সাত গ্রুপের ১৪ দল এখনো নির্দিষ্ট করা যায়নি।

গ্রুপ-‘এ’তে কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি দ্বিতীয় রাউন্ড। এই গ্রুপে রয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক ব্রাজিল। বিদায় অবশ্য ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে ক্যামেরুনের। ব্রাজিল, মেক্সিকো, ক্রোয়েশিয়া—পরের রাউন্ডে যেতে পারে যেকোনো দলই। সমাধান পাওয়া গেছে বি গ্রুপে। এখান থেকে পরের রাউন্ডে যাচ্ছে হল্যান্ড, চিলি। বাদ পড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ ‘সি’তে নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। অবশ্য বাকি তিন দলের কেউ এখনো বাদ পড়েনি। এই গ্রুপের সমাধান হবে শেষ চক্রেই।

‘গ্রুপ অব ডেথ’—‘ডি’ গ্রুপে ছিল তিন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন—ইতালি, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ড। তিন চ্যাম্পিয়নের ‘খাদ্য’ ভাবা হচ্ছিল কোস্টারিকাকে। উল্টো ইতালি, উরুগুয়েকে ‘খাদ্য’ বানিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে পুঁচকে কোস্টারিকা! আর বিশ্বকাপ-অধ্যায়ের অকাল সমাপ্তি ঘটেছে ইংল্যান্ডের। ঝুলে আছে সম্মিলিতভাবে ছয় বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও উরুগুয়ের ভাগ্য।

প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ জয়ে ‘ই’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। হন্ডুরাসের বেজে গেছে বিদায়ঘণ্টা। সুইজারল্যান্ড, ইকুয়েডর—এই দুই দলের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে।

গ্রুপ ‘এফ’-এ থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। বাদ পড়েছে নবাগত বসনিয়া। বাকি দুই দল—নাইজেরিয়া-ইরানের ভবিষ্যত্ জানা যাবে ২৫ জুন।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে জমজমাট গ্রুপ ‘জি’র লড়াই। পরাশক্তি জার্মানি প্রথম ম্যাচে দুরন্ত সূচনা করেও ‘রীতি অনুযায়ী’ আটকে গেছে দ্বিতীয় ম্যাচেই! এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়নি কোনো দলেরই। জার্মানি, ঘানা, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল—চারটি দলের যেকোনো দুটির কপাল পুড়বে গ্রুপের শেষ চক্রে।

গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে কালই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। আলজেরিয়া, রাশিয়া কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া কারও ভাগ্যই এই মুহূর্তে নিশ্চিত কিছু নয়।

বিশ্বকাপে অপেক্ষাকৃত ছোট দলের দ্যুতি ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। ১৯৮২ বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছে পোল্যান্ড, ১৯৯০ বিশ্বকাপে তাক লাগিয়েছে ক্যামেরুন, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়া, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া, ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগাল, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া। ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানা (উরুগুয়েকেও এ দলে রাখা যায়)। কিন্তু এতগুলো ‘আন্ডারডগ’ একই সঙ্গে প্রথম পর্বে হিসাব-নিকাশ তছনছ করে দিচ্ছে—এমনটা ৮৪ বছরের বিশ্বকাপে কখনো দেখা গেছে?
সত্যিই এদিক দিয়ে অনন্য এবারের বিশ্বকাপ।

মেসি-আগুয়েরোর চোখ ধাঁধানো অনুশীলন!


লিওনেল মেসি দাঁড়িয়ে মাঠে। মাঝে একটা বেড়া। বেড়ার ওপারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সার্জিও আগুয়েরো। মাঠ থেকে রাস্তার অবস্থান বেশ উঁচুতে। ব্যস, শুরু হয়ে গেল দুজনের ‘খেলা’। আগুয়েরো বল দিলেন মেসিকে। বুক দিয়ে রিসিভ করে খুদে জাদুকর ভলি করে বল ফেরত পাঠালেন ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আগুয়েরোর কাছে। দুজনের মধ্যে ভলি-পাল্টাভলি চলল কিছুক্ষণ। এ সময়ে বল মাটিই স্পর্শ করেনি!

মাঠের বাইরে দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসির রুমমেট আগুয়েরো। মাঠের বাইরে রসায়নটা ভালো হলেও গত দুই ম্যাচে মাঠে ঠিক জমেনি। মেসি গোল পেলেও আগুয়েরো ছিলেন নিষ্প্রভ। দুজনের চোখ ধাঁধানো এ অনুশীলনের প্রভাব যদি মাঠে দেখা যায়, তাহলে প্রতিপক্ষের কী অবস্থা হবে ভাবা যায়!

২৯ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ২৯ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সোমবার সকালে প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্দোলন দমিয়ে রাখতে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

কারণ দর্শাও নোটিশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রশাসন ভবনে সমাবেশ ও তালা ঝুলিয়ে ওই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ছাত্র হিসেবে এ কাজ অশোভন ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী। তিন কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ব্যর্থ হলে ওই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন ছাত্রী।
প্রশাসনিক ভবনের শিক্ষাবিষয়ক শাখা সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের সেমিস্টার ফি না থাকলেও ২০১২-১৩ সেশন থেকে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত এক হাজার ২০০ টাকা ধার্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া টিএসসি উন্নয়ন, ছাত্র সংসদ ও ইন্টারনেট ফিও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
এই ফি বাতিলের দাবিতে অনেক দিন আগে থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষাার্থীরা। ১৫ জুন থেকে তিন দিন উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন বলে জানা গেছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে প্রক্টর অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, যে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমি চক্রান্তের শিকার: নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দাবি করেছেন, তিনি চক্রান্তের শিকার। তিনি বলেন, ‘আমি চক্রান্তের শিকার। এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত।’

আজ সোমবার সকালে কলকাতার বাগুইহাটি থানার কাছে দেশবন্ধু নগর সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন নূর হোসেন।

আট দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় নূর হোসেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে তোলা হবে। এ উপলক্ষে সকাল নয়টার দিকে তিনজনকে বাগুইহাটি ওই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।

চক্রান্তের পেছনে কারা রয়েছে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আপনারা খুঁজে বের করুন।’ র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘ আমি জানি না।’
নূর হোসের সঙ্গীদের একজন সুমন খান বলেন, ‘আমি পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে এসেছি। তবু আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’

১৪ জুন রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাগুইহাটি থানার কৈখালি এলাকার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসন থেকে দুই সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন। বাগুইহাটি থানার সহযোগিতায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যরা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।

পর দিন গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। নূর হোসেন ও তাঁর দুই সঙ্গীকে জিজ্ঞাসাবাদে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
৮ জুন ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট মাসিক ২০ হাজার টাকায় দুই মাসের জন্য ভাড়া নেন নূর হোসেন।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর নূর হোসেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসেন। বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকার পর ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠেন।

আদালতের নির্দেশ পেয়ে এটিএস সদস্যরা নূর হোসেনকে উত্তর বিধাননগর থানায় নিয়ে জেরা করেন। তিনি কীভাবে, কার সাহায্যে, কোন সীমান্তপথে, কোন দালালের হাত ধরে কলকাতায় এসেছেন—তা জানার চেষ্টা করেছে এটিএস।

এ ছাড়া ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনে ওঠার ক্ষেত্রে নূর হোসেন কাদের সহযোগিতা নিয়েছেন, এ কাজে কলকাতার কোন কোন ব্যক্তি জড়িত—জেরায় তাও জেনে নিয়েছেন এটিএসের সদস্যরা।

গতকাল রোববার বিকেলে বাগুইহাটি থানার আইসি দেবব্রত ঝা প্রথম আলোকে বলেন, আট দিনের রিমান্ড শেষে নূর হোসেনকে কাল (আজ) বারাসাত আদালতে তোলা হবে।

৮ জনের ফাঁসি, ৬ জনের যাবজ্জীবন

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় আটজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এই রায় দেন।

১৬ জুন এই মামলার রায় দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রায় লেখা শেষ না হওয়ায় ওই দিন আদালত ২৩ জুন নতুন তারিখ ধার্য করেন। আজ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

ফিরে দেখা: ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।

২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলারই অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ আবু তাহের, আবদুর রউফ, সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, আকবর হোসাইন, তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই।

আসামিদের মধ্যে বিএনপির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, আবু বকর, শফিকুর ও আবদুল হাই পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আটক রয়েছেন। গত বছরের ২৩ অক্টোবর হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার রায় কাল

নবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় কাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। 

আজ সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রথমবারের মতো এই মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই অবসরে চলে যান ট্রাইব্যুনাল-১-এর তত্কালীন চেয়ারম্যান। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল দ্বিতীয় দফায় মামলার সমাপনী যুক্তি শুনে গত ২৪ মার্চ মামলার রায় অপেক্ষমাণ রাখেন।

নিজামীর বিরুদ্ধে এই মামলার বিচার চলছে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে। গত বছরের ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। ওই একই দিনে ট্রাইব্যুনাল-২-এ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ওই মামলার আপিল নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকর হয়ে গেছে।

নিজামীর মামলায় দীর্ঘসূত্রতা

নিজামীর মামলায় দীর্ঘসূত্রতার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর থেকে এই মামলায় ১৭ মাস ধরে ৩০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় নিজামী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। গত বছর ওই মামলা বিচারাধীন থাকাকালে নিজামীকে সপ্তাহে দুই দিন চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হতো। আরেকটি মামলা সমান্তরালে চলার কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি কিছুটা ব্যাহত হয়।

১৩ নভেম্বর প্রথম দফায় নিজামীর মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হলেও ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন চলে। এরপর রায় ঘোষণার আগেই ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর তত্কালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর। ৫৩ দিন এই পদ শূন্য ছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১০ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়, যা গত ২৪ মার্চ শেষ হয়।

এই ট্রাইব্যুনাল এর আগে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও দলটির নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার রায় দিয়েছেন। তিনটি মামলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।


১৬ অভিযোগ
নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন প্রভৃতিসহ ১৬ অভিযোগ রয়েছে। একাত্তরের ১০ মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দুটি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে ও ৩০-৪০ জন নারীকে রাজাকাররা ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় নিজামীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, একাত্তরের ৩০ আগস্ট নাখালপাড়ায় পুরোনো এমপি হোস্টেলে আটক মুক্তিযোদ্ধা রুমী, বদি, জালাল, আলতাফ মাহমুদ প্রমুখকে হত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের প্ররোচনা দেন নিজামী। এই অভিযোগে ইতিমধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ডাদেশ পেয়েছেন।

নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাসের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কলেজে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার-আলবদরের ক্যাম্প ছিল। নিজামী ওই ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত করতেন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র করতেন। ১৬ ডিসেম্বরের আগমুহূর্তে নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে আলবদর ও পাকিস্তানি সেনারা বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে সেখানে নিয়ে নির্যাতন করতেন এবং হত্যা করে মরদেহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে ফেলে দিতেন। আর ষড়যন্ত্র ও উসকানির অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরে দেওয়া নিজামীর বিভিন্ন বক্তৃতার মাধ্যমে অধীনস্ত রাজাকার ও আলবদরদের অপরাধ করতে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন।

১৯৪৩ সালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী নিজামী একাত্তরে নিখিল পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের (জামায়াতের তত্কালীন ছাত্র সংগঠন যার নাম বর্তমানে ছাত্র শিবির) সভাপতি ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তিনি একাত্তরের কুখ্যাত গুপ্তঘাতক বাহিনী আলবদরের প্রধান ছিলেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় নিজামীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

৬৫ বছরে আ. লীগের অর্জন অনেক: আশরাফ


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বিগত ৬৫ বছরে আওয়ামী লীগের অর্জন অনেক। আওয়ামী লীগ এ অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে, আগামীতে আরও অর্জন করবে।
আজ সোমবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জণগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ৬৫ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুথান. সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেয়। এই অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ গঠনেও আওয়ামী লীগ আরও অর্জন করবে।ভবিষ্যতে আর কী কী অর্জন করতে চান—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আগামী এলেই আপনারা দেখতে পাবেন।’
এর আগে সকাল সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি দলীয় সভানেত্রী হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
আওয়ামী লীগ আজ বেলা সাড়ে তিনটায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত গণশোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।  

ক্যামেরুনের বিপক্ষে ড্র করবে ব্রাজিল, বলল কচ্ছপ সাবেসাও

জার্মানিকে হারাবে ঘানা—এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল অক্টোপাস রিজিনা। অল্পের জন্য ফলেনি সে ভবিষ্যদ্বাণী। ঘানার বিপক্ষে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মানি। এবার ব্রাজিলের কচ্ছপ ‘সাবেসাও’ ভবিষ্যদ্বাণী করল ২৩ জুন ব্রাজিল-ক্যামেরুন ম্যাচটি ড্র হবে।
এর আগে কচ্ছপটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ম্যাচে জিতবে নেইমাররা। সেটি ফলেছিল। তবে পরের ম্যাচে সাবেসাওর ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ! ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, ব্রাজিল হারবে মেক্সিকোর বিপক্ষে। কিন্তু সে ম্যাচ হয়েছে ড্র।
সালভাদরের উত্তরে অবস্থিত মাতা তি সাও জোয়াও শহরের উত্তর-পূর্ব এলাকার এক ট্যাংকে বাস সাবেসাওর। কচ্ছপের এ ভবিষ্যদ্বাণীতে ভীষণ রোমাঞ্চিত পর্যটকেরা। ভারতীয় পর্যটক মাগুলা তিওয়ার বললেন, ‘এটি সত্যিই রোমাঞ্চকর। কারণ, আমি একজন সামুদ্রিক কচ্ছপ-বিশেষজ্ঞ। বিশ্বের অনেক জায়গায় আমি কাজ করেছি। কচ্ছপ কী দারুণভাবেই না বেছে নিল! ম্যাচটা ড্র হয়েছিল। সেটি আমার জন্য ভালো হয়েছে।’
তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা তিওয়ারের মতো অতটা উচ্ছ্বসিত নন। ব্রাজিলিয়ান সমর্থক রাই সুজা বললেন, ‘কচ্ছপ একটি মাছকেই খাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিল... তাতেই ভবিষ্যত্ বলা হয়ে গেল। এ ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করি না।’

ব্রাজিলকে সুবিধা দিয়েছে ফিফা: ফন গাল


বিশ্বকাপের আগে স্পেন-হল্যান্ড ম্যাচটিকে ধরা হয়েছিল গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট বলে নয়, এ ম্যাচের গুরুত্ব বেড়েছিল আরেকটি কারণে। ওই ম্যাচে স্পেন-হল্যান্ড—যারা জিতবে, তারা ‘গ্রুপ-বি’র সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন। আর চ্যাম্পিয়ন হলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলকে (‘এ’ গ্রুপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরে) এড়ানো সম্ভব হবে।

কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে স্পেনের বিদায় ও চিলির দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হওয়ায়। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়েছে ডাচদেরও। ফ্যাঁকড়া বেধেছে ‘গ্রুপ-বি’র চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে। আজ (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) হল্যান্ড-চিলি ম্যাচে যে জিতবে, সেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। মজার ব্যাপার হলো, গত দুটি ম্যাচ ব্রাজিলের পরেই খেলেছে হল্যান্ড। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলতে হচ্ছে ব্রাজিলের আগে।

হল্যান্ড কোচ ফন গালের প্রশ্ন এখানেই। তাঁর মতে, ম্যাচের এ সূচি নাকি করা হয়েছে ব্রাজিলের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কারণেই। কারণ হল্যান্ড-চিলির ম্যাচের ফল দেখেই সেলেসাওরা মাঠে নামবে; যা তাদের খেলার কৌশলে ভূমিকা রাখতে পারে। ডাচ কোচ এ সূচিকে ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে বলেন, ‘ফিফা দারুণ কৌশল ফেঁদেছে। এটি কিছুতেই ভালো হতে পারে না। এটি একেবারে স্বচ্ছও নয়।’ তবে ডাচ কোচ এর চেয়ে চিলির ম্যাচটি নিয়েই বেশি ভাবিত। বললেন, ‘চিলির বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে মনে করি না, আমাদের ম্যাচের ফল ব্রাজিলের খেলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে। আমার ধারণা, তারা তাদের নিজেদের খেলাটাই খেলবে।’ রয়টার্স

ফন গালকে ‘নির্বোধ’ বললেন স্কলারি!


‘ইট’টা আগে মেরেছিলেন লুই ফন গালই। এবার পাটকেল মারলেন ব্রাজিল কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি। ডাচ কোচের দাবি, হল্যান্ড-চিলি ম্যাচের সময়সূচি ব্রাজিল-ক্যামেরুন ম্যাচের আগে নির্ধারণ করা নাকি ব্রাজিলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই। কারণ, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার ওই ম্যাচের ফল দেখেই নেইমাররা ক্যামেরুনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন রাত দুইটায় (বাংলাদেশ সময়)। ফন গালের এ মন্তব্যকে ‘নির্বোধের মতো’ ও ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলেছেন ‘বিগ ফিল’।

সংবাদ সম্মেলনে স্কলারি বললেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, আমরা নাকি পরবর্তী রাউন্ডে কাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছি, সেটি জেনে খেলতে নামছি। এ ধরনের মন্তব্য হয় নির্বোধের মতো নতুবা দুরভিসন্ধিমূলক। আমি আবারও বলছি, নির্বোধের মতো নতুবা দুরভিসন্ধিমূলক।’ স্কলারি কথাটা কাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
এরপর ব্রাজিল কোচ বললেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় রাউন্ড কোয়ালিফাই করতে খেলতে হবে। শীর্ষে থাকা বা প্রতিপক্ষ নির্বাচনের জন্য নয়। আর খেলার সূচি ঠিক করেছে ফিফা, ব্রাজিল নয়।’ ১৯৭৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম ব্রাজিলকে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। রয়টার্স

সাংসদের সমালোচনা করায় দিগম্বর!


ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকিরের সমালোচনা করার ‘অপরাধে’ একজন কলেজশিক্ষককে দিগম্বর করে ঘোরানো হয়েছে৷ গতকাল রোববার ওই সাংসদের সমর্থকেরা এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে৷
ওই শিক্ষকের নাম মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ৷ তিনি ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক৷
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফরিদ উদ্দিন গতকাল বেলা তিনটার দিকে মোটরসাইকেলে করে কলেজ থেকে গৌরীপুর পৌর শহরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর-কলতাপাড়া সংযোগ সড়কের মোড়ে এলে ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাংসদের ২৫ থেকে ৩০ জন সমর্থক তাঁর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে ফরিদ উদ্দিনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে টেনেহিঁচড়ে তাঁর গায়ের শার্ট-প্যান্ট খুলে দিগম্বর করেন৷ দিগম্বর অবস্থায় মহাসড়কে শত শত মানুষের সামনে ঘোরান৷ এ সময় সাংসদ-সমর্থকেরা বলতে থাকেন, ‘গৌরীপুর থাকতে হলে এমপির নামে কোনো সমালোচনা করা যাবে না। এমপির নামে কোনো সমালোচনা করলে ইহজগতে থাকতে পারবে না।’ পরে ফরিদ উদ্দিনকে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে মজিবুর রহমান ফকিরের ব্যক্তিগত কার্যালয় ‘সেবালয়’-এ নিয়ে যান ওই কর্মীরা। সেখানে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়৷
ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একসময় গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর পদ থেকে অব্যাহতি নিই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে সাংসদ ও তাঁর সমর্থকেরা নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। আমি জনসমক্ষে এর সমালোচনা করায় মজিবুর রহমান ফকির ক্ষুব্ধ ছিলেন৷ সাংসদের ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি জানতাম, কিন্তু তাঁর লোকজন আমাকে এভাবে অপমান করবে, এটা ভাবতেই পারিনি।’
হেনস্তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এর আগেও সাংসদের কার্যালয় ‘েসবালয়’-এ নিজ দলের ‘বিরোধী’ কর্মী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মাথা ন্যাড়া করাসহ নানাভাবে অপদস্থ করা হয়েছে৷ কেউ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন সাংসদের সমর্থকেরা।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন নানা সময়ে আমাদের সাংসদকে উলঙ্গ করে রাস্তায় ঘোরানোর কথা বলেছেন। তাই দলের উঠতি কয়েকজন কর্মী তাঁর জামাকাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাঁকে রক্ষা করি৷ এ ঘটনায় সাংসদের কোনো ইন্ধন নেই৷’
এ ব্যাপারে জানতে সাংসদ মজিবুর রহমান ফকিরের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, ফরিদ উদ্দিন একটি অভিযোগ দিয়েছেন৷ মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন৷