Monday, October 27, 2014

নির্বাচনে জিতে ঐক্যের ডাক রুসেফের

বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ অল্প ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়ে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।
আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটিতে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির রুসেফ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য ডানপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টির এসিও নেভিস পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ভোট।
বিজয়-ভাষণে রুসেফ বলেন, তাঁর বর্তমান অবস্থান থেকে আরও অনেক ভালো প্রেসিডেন্ট হতে চান তিনি।
দেশের ভবিষ্যতের জন্য ব্রাজিলের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রুসেফ। ব্রাজিলে পরিবর্তন আনতে সংলাপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই বামপন্থী প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ভোটারদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানেন।
রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় উৎফুল্ল জনতার উদ্দেশে রুসেফ বলেন, ‘সংলাপের জন্য এই প্রেসিডেন্ট খোলামেলা। এটাই আমার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
২০১০ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন রুসেফ। দেশটির দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়। তবে দুর্নীতি, বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে বিপুল ব্যয়, নিম্ন মানের জনসেবা প্রভৃতি কারণে সম্প্রতি প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মতো ভোট পাননি রুসেফ। এ কারণে তাঁকে মধ্য ডানপন্থী প্রার্থী এসিও নেভিসের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হতে হয়। প্রথম দফায় রুসেফ ৪২ শতাংশ এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নেভিস পান ৩৪ শতাংশ ভোট। অন্য প্রার্থী পরিবেশবাদী মারিনা সিলভা পান ২১ শতাংশ ভোট। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে কোনো প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারণা গত শুক্রবার রাতে শেষ হয়। এদিন দুই প্রার্থীর মধ্যে তুমুল বাক্যবাণ ছোড়াছুড়ি হয়। দুজনের চূড়ান্ত পর্বের বিতর্কে ওয়ার্কার্স পার্টির ১২ বছরের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে রুসেফকে কাবু করেন নেভিস। বিতর্কের শুরুতেই একটি সাময়িকীর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের কয়েক শ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পে অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে ‘সবকিছুই জানতেন’ রুসেফ ও তাঁর পূর্বসূরি ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
এক রক্ষণশীল সমর্থক সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন প্রেসিডেন্ট রুসেফ। তিনি বলেন, এটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর’।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট রুসেফ হচ্ছেন সাবেক মার্ক্সবাদী গেরিলা। প্রায়ই হুগো চাভেজের প্রশস্তি গান তাঁকে ‘লাতিন আমেরিকার মহান নেতা’ আখ্যায়িত করে।
রুসেফের দল ওয়ার্কার্স পার্টি ১২ বছর ধরে ক্ষমতায়। এই সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অনেক জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চার কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে রুসেফ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর চার বছরে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। সম্ভবত ব্রাজিল ইতিমধ্যে মন্দায় পড়ে গেছে। বাসভাড়া বৃদ্ধি ও সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে গত বছর লাখ লাখ লোক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে।
লাতিন আমেরিকায় কোনো প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করে হেরে গেছেন, এমন নজির নেই বললেই চলে। এমনকি চরম সংকটের মধ্যেও তাঁরা উতরে গেছেন। পুনর্নির্বাচিত হয়ে রুসেফও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন।

No comments:

Post a Comment