Sunday, July 27, 2014

বেঙ্গালুরুর স্কুলবাসে থাকবে জিপিএস, সিসি ক্যামেরা

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু শহরে ছয় বছরের স্কুলশিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে বেঙ্গালুরু পুলিশ শহরের সব স্কুলবাসে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেস (জিপিএস) এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া যেসব অভিভাবক বাচ্চাদের নিতে স্কুলে আসবেন, তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর স্কুল বাসচালকেরা শিশুদের সঙ্গে মিশতে পারবেন না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানায় এনডিটিভি।

২ জুলাই বেঙ্গালুরুর ভাইবগিওড় উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুষ্টুমি করার জন্য স্কুলের স্কেটিং শিক্ষক ছয় বছরের একটি মেয়েকে ক্লাস ছেড়ে চলে যেতে বলেন। শাস্তি হিসেবে স্কুলের একটি ফাঁকা ভাঁড়ার কক্ষে (শরীরচর্চার জিনিসপত্র রাখার ঘর) তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। এ সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা স্কুলে থাকাকালে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেন।


বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার এম এন রেড্ডি বলেন, ‘কর্ণাটক পুলিশ অ্যাক্টের আওতায় আমি সব স্কুলের জন্য একটি নির্দেশ জারি করেছি। তারা এটি না মানলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, এসব নির্দেশনা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে।

এ ঘটনায় ওই স্কুলের স্কেটিং শিক্ষক মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষকের ল্যাপটপে স্কুলের শিশুদের ধর্ষণ করার ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল স্কুলটি খোলার কথা রয়েছে।

ভারতে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ২০১২ সালে চলন্ত বাসে এক মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে সরকারকে জোরালো ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। ধর্ষণবিরোধী আইন জোরদার ও ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ২০১৩-এর হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ২১ মিনিটে একটি করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

No comments:

Post a Comment