গত বছর তৃতীয় সন্তান আবরাম খানের বাবা হতে গিয়ে ব্যাপক ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখ খানকে। সন্তান জন্মের আগেই লিঙ্গ নির্ধারণের অভিযোগে মামলা হয় কিং খানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই মামলায় শাহরুখের পক্ষেই রায় দিয়েছেন বোম্বে উচ্চ আদালত।
শাহরুখ গত বছরের ২৭ মে সারোগেসি পদ্ধতিতে তৃতীয় সন্তানের বাবা হন। এ পদ্ধতিতে বাবা-মায়ের অনাগত সন্তানের ভ্রূণ পরিবারের বাইরের কোনো নারীর গর্ভে বেড়ে ওঠে।
তৃতীয়বার বাবা হতে গিয়ে ভালোই ঝক্কি পোহাতে হয় শাহরুখকে। সন্তান জন্মের আগেই লিঙ্গ নির্ধারণের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কারণ ভারতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও বেআইনি। শাহরুখের বিরুদ্ধে পিসিপিএনডিটি (প্রি-কনসেপশন অ্যান্ড প্রি-ন্যাটাল ডায়াগনস্টিক টেকনিকস) অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা ঠুকে দেন সমাজকর্মী বর্ষা দেশপান্ডে।
একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মামলাটি করেন বর্ষা দেশপান্ডে। তিনি অভিযোগ তোলেন, সন্তান জন্মের আগেই তার লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা করানো হয়েছে। সত্যিই ওই পরীক্ষা করানো হয়ে থাকলে তার কাগজপত্র মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব গ্রেটার মুম্বাই (এমসিজিএম) কর্তৃপক্ষকে আদালতে দাখিলের আবেদনও জানান বর্ষা।
সম্প্রতি এমসিজিএম কর্তৃপক্ষ বোম্বে উচ্চ আদালতকে জানায়, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শাহরুখের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া শাহরুখের আইনজীবী প্রণব বাধেকা আদালতকে বলেন, আবরামের জন্মের আগে কোনো লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা করা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবরামের লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার কাগজপত্র আদালতে দাখিলের আবেদন খারিজ করে দেন বোম্বে উচ্চ আদালত।
প্রসঙ্গত, শুরুতে আবরামের সারোগেট মায়ের পরিচয় গোপন রাখা হলেও পরে জানা যায়, তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন শাহরুখ-গৌরীর নিকট আত্মীয়া নমিতা শিবার। গর্ভধারণের ৩৪ সপ্তাহ পর গত বছরের ২৭ মে আন্ধেরির মাছরানি হসপিটাল ফর ওমেনে আবরামের জন্ম দেন নমিতা।
জন্মের পর জটিলতা দেখা দেওয়ায় প্রথমে আবরামকে জুহুর নানাবতি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে মাস খানেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠলে জুলাই মাসের শুরুর দিকে শাহরুখের মান্নাত বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয় আবরামকে।

No comments:
Post a Comment