বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন৷ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বর্তমানে সংসদের বাইরে আছে৷
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরকে উদ্ধৃত করে গতকাল শনিবার ঢাকায় জাতিসংঘ দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ১৯ জুন নিউইয়র্কে বান কি মুনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বৈঠকের পর এই বিবৃতি এল৷ এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে উৎসাহ জুগিয়েছেন বান কি মুন৷
গত ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ না হওয়ায় পরদিনই এর সমালোচনা করেছিল জাতিসংঘ৷ নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস পর গতকাল এ বিবৃতির মাধ্যমে জাতিসংঘ আবারও তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল।
গত নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছিল জাতিসংঘ। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১২ ও ২০১৩ সালে বান কি মুন তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে তিনবার ঢাকায় পাঠান। বান কি মুন নিজেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে ও ফোন করে সমঝোতার তাগিদ দিয়েছিলেন৷
জাতিসংঘের শেষ চেষ্টা হিসেবে ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তাঁর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দফা সংলাপে বসেছিল। তারানকো যাওয়ার পর ফের সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছিল দুই দল। একে সাফল্য হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন তারানকো। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম সমাধানে পৌঁছায়নি প্রধান দুই রাজনৈতিক দল।
বান কি মুনের গতকালের বিবৃতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব সংসদের বাইরের বিরোধী দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার গুরুত্ব তুলে ধরে যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। আশা করব, কালবিলম্ব না করে দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেছেন, এটা দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বান কি মুনের আলোচনা৷ এ বিষয়ে কথা বলা সমীচীন হবে না৷
প্রথম আলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টার সঙ্গেও ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেছে৷ তবে তিনি ফোন ধরেননি৷ মুঠোফোনে পরিচয় জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি৷
তবে নিউইয়র্কের বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসস ও ইউএনবি গত শুক্রবার জািনয়েছিল, বান কি মুনকে আশ্বস্ত করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে৷ এখন তারা সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চায়৷ আর সে কারণে নির্বাচনের পর থেকে দেশে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে৷
জাতিসংঘের গতকালের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বান কি মুন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, মৃত্যুহার কমানো ও চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানান বান কি মুন। রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনার সময় গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে বাংলাদেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব৷

No comments:
Post a Comment