মওদুদ আহমদের লেখা বই নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই সময়ে এ ধরনের বই কেন প্রকাশ করা হলো, তা নিয়েও দলের ভেতরে বিশ্লেষণ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এ বিষয়ে কঠোর কোনো মনোভাব দেখাননি বলে জানা গেছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে বিএনপির কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে মওদুদ আহমদের বইটির বিষয়ে আলোচনা তোলেন। এ সময় খালেদা জিয়া জানতে চান, বইয়ে আসলে কী লেখা হয়েছে। এ সময় কেন বইটি প্রকাশ করা হলো, এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা দেখা দরকার বলেও বিএনপির নেত্রী মন্তব্য করেন বলে সূত্রটি জানায়।
সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন, এমন একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেছেন, তিনি চাইলে ওয়ান-ইলেভেনে দেশের বাইরে গিয়ে নিরাপদে থাকতে পারতেন। নিজের দুই ছেলেকেও নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’।
মওদুদ তাঁর বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দি আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮ বইয়ে লিখেছেন, এক-এগারোর সময় খালেদা জিয়ার কাছে দুই ছেলের ভাগ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া তিনি কোনো আলোচনায় যেতে রাজি ছিলেন না। সে সময় একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন মা হিসেবে দুই সন্তানের মুক্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন খালেদা জিয়া।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, এমনিতে বিএনপি এখন কঠিন সময় পার করছে। সরকারি দল বিএনপির বিরুদ্ধে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য মওদুদ তাঁর বইয়ে এসব কথা তুলে ধরলে, তা দলের জন্য খুবই অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
এই নেতার মতে, মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারের বই ১৯৭১:øভেতরে বাইরে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিল। আর বিএনপির নেতারা এ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে মওদুদ আহমদের নতুন বইটি প্রকাশিত হওয়ায় এখন উল্টা বিএনপি অস্বস্তিতে পড়েছে। এ কারণে বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে দলের ভেতরে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, গুলশানের বাড়ি নিয়ে মামলার চাপ এড়াতে সরকারের আনুকূল্য পেতে মওদুদ বইটি এ সময়ে প্রকাশ করেছেন।
তবে মওদুদের এ বইয়ের বিষয়ে দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা উদ্ধৃত হয়ে প্রথম আলোকে কিছু বলতে রাজি হননি। বইটি গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন পর সোমবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদের সমালোচনা করেন। তিনি এ-ও বলেন, ‘কোনো ডিগবাজ, আদর্শহীন ও দলছুট নেতার বইয়ে বিএনপির কিছুই আসে-যায় না।’
কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে রিজভী এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আগের দিনের মন্তব্য দলের নয়, তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ছিল বলে জানান।
মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে বই লিখেছেন। বইটি পুরোটা পড়া উচিত। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পড়ে কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বইটি প্রকাশ করার জন্য এ সময়টা কেন বেছে নেওয়া হল—এ প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, চাইলে কোনো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হঠাৎ করেই একটি বই লিখে ফেলা যায় না। তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে কারা অভ্যন্তরে থাকাকালেই বইটি লেখা শুরু করেন। আর ২০০৯ সালে এটি প্রকাশককে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর আরও দুটি বই একই প্রকাশনা থেকে বের হয়েছে।
অবশ্য মওদুদের বই নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনা এই প্রথম নয়। এর আগে তাঁর লেখা অ্যা স্টাডি অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড মিলিটারি ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ বইটি নিয়ে গত বছরের মে মাসে দলের মধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মওদুদ। ওই সময় দলের একটি অংশ বইটির অংশবিশেষ আলোচনায় এনে মওদুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল।
বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে বিএনপির কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে মওদুদ আহমদের বইটির বিষয়ে আলোচনা তোলেন। এ সময় খালেদা জিয়া জানতে চান, বইয়ে আসলে কী লেখা হয়েছে। এ সময় কেন বইটি প্রকাশ করা হলো, এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা দেখা দরকার বলেও বিএনপির নেত্রী মন্তব্য করেন বলে সূত্রটি জানায়।
সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন, এমন একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেছেন, তিনি চাইলে ওয়ান-ইলেভেনে দেশের বাইরে গিয়ে নিরাপদে থাকতে পারতেন। নিজের দুই ছেলেকেও নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’।
মওদুদ তাঁর বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দি আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮ বইয়ে লিখেছেন, এক-এগারোর সময় খালেদা জিয়ার কাছে দুই ছেলের ভাগ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া তিনি কোনো আলোচনায় যেতে রাজি ছিলেন না। সে সময় একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন মা হিসেবে দুই সন্তানের মুক্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন খালেদা জিয়া।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, এমনিতে বিএনপি এখন কঠিন সময় পার করছে। সরকারি দল বিএনপির বিরুদ্ধে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ‘অপপ্রচার’ চালাচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য মওদুদ তাঁর বইয়ে এসব কথা তুলে ধরলে, তা দলের জন্য খুবই অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
এই নেতার মতে, মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারের বই ১৯৭১:øভেতরে বাইরে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিল। আর বিএনপির নেতারা এ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে মওদুদ আহমদের নতুন বইটি প্রকাশিত হওয়ায় এখন উল্টা বিএনপি অস্বস্তিতে পড়েছে। এ কারণে বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে দলের ভেতরে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, গুলশানের বাড়ি নিয়ে মামলার চাপ এড়াতে সরকারের আনুকূল্য পেতে মওদুদ বইটি এ সময়ে প্রকাশ করেছেন।
তবে মওদুদের এ বইয়ের বিষয়ে দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা উদ্ধৃত হয়ে প্রথম আলোকে কিছু বলতে রাজি হননি। বইটি গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন পর সোমবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদের সমালোচনা করেন। তিনি এ-ও বলেন, ‘কোনো ডিগবাজ, আদর্শহীন ও দলছুট নেতার বইয়ে বিএনপির কিছুই আসে-যায় না।’
কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে রিজভী এ বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আগের দিনের মন্তব্য দলের নয়, তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য ছিল বলে জানান।
মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে বই লিখেছেন। বইটি পুরোটা পড়া উচিত। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পড়ে কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বইটি প্রকাশ করার জন্য এ সময়টা কেন বেছে নেওয়া হল—এ প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, চাইলে কোনো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হঠাৎ করেই একটি বই লিখে ফেলা যায় না। তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে কারা অভ্যন্তরে থাকাকালেই বইটি লেখা শুরু করেন। আর ২০০৯ সালে এটি প্রকাশককে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর আরও দুটি বই একই প্রকাশনা থেকে বের হয়েছে।
অবশ্য মওদুদের বই নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনা এই প্রথম নয়। এর আগে তাঁর লেখা অ্যা স্টাডি অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড মিলিটারি ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ বইটি নিয়ে গত বছরের মে মাসে দলের মধ্যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মওদুদ। ওই সময় দলের একটি অংশ বইটির অংশবিশেষ আলোচনায় এনে মওদুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল।

No comments:
Post a Comment