Pages

Sunday, July 27, 2014

আরও ২৪ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে রাজি ইসরায়েল


ফিলিস্তিন-শাসিত গাজায় আরও ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। এদিকে গত ১৯ দিনে গাজায় ইসরায়েলের প্রায় একতরফা বর্বর হামলায় এক হাজার ৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘের অনুরোধে মানবিক কারণে গতকাল শনিবারের যুদ্ধবিরতি আজ রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা।

তবে ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছে, হামাস অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করলে তাদের সেনাবাহিনী গাজায় ফের হামলা শুরু করবে।

হামাস বলেছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফিরতে দেওয়া না হলে তারা যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করবে না।
হামাসের অভিযোগ, গতকাল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এই সময় তেল আবিব আরও হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়ও গাজায় সন্দেহের মধ্যে থাকা সুড়ঙ্গগুলোতে তল্লাশি চালানো হবে।

উভয় পক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা মানবিক কারণে ‘অস্ত্রবিরতিতে’ সম্মত হয় গাজার নিয়ন্ত্রক ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল।

ইসরায়েলের অভিযোগ, ১২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি শেষ হতে না হতেই গাজা থেকে রকেট ছুড়েছে হামাস।

হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহুর বলেছেন, ‘গাজা উপত্যকা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফেরা এবং হামলায় আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিলে কোনো মানবিক অস্ত্রবিরতি গ্রহণযোগ্য হবে না।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের প্রায় একতরফা বর্বর হামলায় এক হাজার ৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ছয় সহস্রাধিক ব্যক্তি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ। হতাহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের দুই বেসামরিক নাগরিকসহ ৪২ সেনা নিহত হয়েছে।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ৮ জুলাই। ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলা শুরু হয়। হামাসই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করেছে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।

No comments:

Post a Comment