Pages

Sunday, June 22, 2014

পোশাক খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ইন্ডাস্ট্রিঅল

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
আজ রোববার মন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরের তথ্য তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংগঠনের প্রধান বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম খান এবং মহাসচিব আওয়ামী নেতা রায় রমেশ চন্দ্র। তবে রমেশকে আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তোফায়েল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায় রমেশ চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অনেক আগে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোথাও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তোফায়েল আহমেদের এ অভিযোগ সঠিক নয়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার ওয়াশিংটনে না গেলে জানতামই না বাংলাদেশে শ্রমিক নির্যাতন হয়।’ ইন্ডাস্ট্রিঅল সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বিরুদ্ধে চিঠিপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যদি তা-ই হয়ে থাকে তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে তো কেবল আসলাম। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা চিন্তাভাবনা করতে হবে।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কিছু শ্রমিক নেতা আছেন, যাঁরা শ্রমিক নন। বিদেশিরা কল্পনা আক্তার এবং বাবুল আক্তারসহ বেশ কয়েকজনের নাম বলেছে, যাঁরা আসলে শ্রমিক নন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মন্ত্রী সাতজন কংগ্রেসম্যান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সেমিনারে অংশ নেন।
মন্ত্রী জানান, তাঁরা সবাই বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে ‘উল্লেখযোগ্য ও অভাবনীয়’ উন্নতি করেছে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাতিল করা জিএসপি-সুবিধা পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৬টি শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কী—জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত বন্ধুপ্রতিম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। যেই ক্ষমতায় থাকুক, ভারত তার পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করে না।
তাহলে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করে কেন—জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কই করে? আমাদের দেশেও তো পররাষ্ট্রনীতি একই থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে হয় ভারতপ্রীতি আর তারা ক্ষমতার বাইরে থাকলে হয় ভারতভীতি।’

No comments:

Post a Comment