Pages

Sunday, June 22, 2014

আন্দোলনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান

বগুড়া থেকে জয়পুরহাটের পথে খালেদা জিয়া

দেশের অনেক জায়গার মতো সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে বগুড়ায়। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহরের সার্কিট হাউসের ফটক থেকে সাতমাথা হয়ে মাটিডালি বিমানমোড় পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছিল। ভিজে একাকার হয়ে অপেক্ষা করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য।
বেলা পৌনে দুইটার দিকে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। খালেদা জিয়া এ সময় সার্কিট হাউস থেকে জয়পুরহাটের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে সরকার পতন আন্দোলনের জন্য নেতা-কর্মীদের সব মতবিরোধ ভুলে একযোগে প্রস্তুত হতে বলেন। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে খুন, হত্যা, গুম আর সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচারের কারণে দেশবাসী আজ অসহায়। অত্যাচার-নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এ সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, জাতিকে মেধাশূন্য করতে সরকার বেছে বেছে মেধাবী যুবসমাজকে গুম-হত্যা করছে। গুম-হত্যায় অতিষ্ঠ হয়ে আজ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুবক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী, শিক্ষক-সাংবাদিক এ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চান। দেশের সব দলকে এক হয়ে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
বিএনপির চেয়ারপারসন বগুড়ার প্রতি সরকারের উন্নয়ন বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সরকার বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বগুড়ার ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার আগে খালেদা জিয়া গত বছর হরতালের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা ইউসুফ আলীর মা আনোয়ারা বেগমের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন।
ছয় মিনিটের বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর জয়পুরহাটের উদ্দেশে সার্কিট হাউস ছাড়ে। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
খালেদা জিয়া গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বগুড়া থেকে জয়পুরহাটের জনসভাস্থল পর্যন্ত তিন শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। বগুড়া থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীরা দলীয় চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।’

No comments:

Post a Comment