৮০ মিনিটের খেলা শেষ। ক্যামেরুনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে এগিয়ে ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পরেই খবর এলো: ‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার জালে তিনবার বল জড়িয়েছে মেক্সিকো। শেষপর্যন্ত যদি ব্যবধান এরকমই থাকে তাহলে ব্রাজিল-মেক্সিকোর পয়েন্ট, গোল ব্যবধান; সবই সমান হয়ে যাবে। আবারও বসতে হবে নতুন হিসেবের খাতা খুলে।
কিন্তু এত জটিলতার মধ্যে যেন যেতেই চাইলেন না ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। ৮৪ মিনিটে আরেকটি গোল করে ফার্নান্দিনহো চুকিয়ে দিলেন জটিল হিসাব-নিকাশের ঝামেলা। শেষপর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছে সেলেসাওরা। এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চিলির মুখোমুখি হতে হবে নেইমার-ফ্রেড-অস্কারদের।
‘এ’ গ্রুপের অপর ম্যাচে পরে মেক্সিকোকেও হজম করতে হয়েছে একটি গোল। তবে তাতে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মেক্সিকোও উতরে গেছে গ্রুপ পর্বের বাধা। তবে নক আউট পর্বের শুরুতেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ডাচদের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে মেক্সিকোকে।
মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূণ্য ড্রয়ের পর আজ ক্যামেরুনের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। অনেকেই হয়তো ম্যাচটা দেখা শুরু করেছিলেন দুরু দুরু বুকে। একটু এদিক-ওদিক হলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের আশঙ্কাও ছিল ব্রাজিলের। কিন্তু সেলেসাওদের জয় নিয়ে আজ খুব বেশি চিন্তিত হতে হয়নি সমর্থকদের। প্রথমার্ধেই জয়ের কাজটা এগিয়ে রেখেছিলেন নেইমার। অস্কার-ফ্রেডরা খুব বেশি জ্বলে উঠতে না পারলেও ব্রাজিলিয়ানদের উল্লাসে মাতিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তাঁর জোড়া গোলের সুবাদেই প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
ক্যামেরুনের বিপক্ষে শুরু থেকেই বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। প্রথম ১০ মিনিটেই বেশ কয়েকবার আতঙ্ক ছড়িয়েছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। গোলের জন্যও খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সেলেসাওদের। ১৭ মিনিটের মাথায় লুইস গুস্তাভোর দারুণ এক পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেছেন নেইমার।
কিছুক্ষণ পর ক্যামেরুনও পাল্টা আঘাত হেনেছিল ব্রাজিলিয়ান শিবিরে। ২৫ মিনিটে জোয়েল মাতিপের হেড ফিরে এসেছিল ব্রাজিলের গোলপোস্টে লেগে। গোল না পাওয়ার আক্ষেপ অবশ্য বেশিক্ষণ করতে হয়নি মাতিপকে। পরের মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়েছিলেন ক্যামেরুনের এই ডিফেন্ডার। দানি আলভেজকে দারুণভাবে কাটিয়ে তাঁর দিকে বল বাড়িয়েছিলেন অ্যালান নিয়ম।
নেইমারও খুব বেশি সময় নেননি ব্রাজিলকে আবারও খেলায় ফেরাতে। ৩৫ মিনিটের মাথায় মার্সেলোর পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো এক শটেক্যামেরুনের জালে বল জড়িয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন ফ্রেড। ৪৯ মিনিটে ডেভিড লুইজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ৮৪ মিনিটে আরেকটি গোল করে ব্রাজিলের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও নিশ্চিত করে ফেলেছেন ফার্নান্দিনহো

No comments:
Post a Comment