Pages

Monday, November 10, 2014

বাংলাদেশি জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দেয়নি ভারত- বর্ধমান বিস্ফোরণ : হাসিনা-খালেদাকে হত্যা পরিকল্পনার তথ্য নেই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশি কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কোনো তথ্য দেয়নি ভারত। বাংলাদেশে জঙ্গি নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা গতকাল রোববার প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন। 
এদিকে গতকাল বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) এক সূত্রের উল্লেখ করে বিবিসি জানায়, ওই ঘটনায় যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টার কথা আদৌ উল্লেখ করা হয়নি। কারণ এ বিষয়টি নিয়ে তারা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
বর্ধমানের বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ১২ পলাতক জঙ্গিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এনআইএ পুরস্কার ঘোষণা করে। ১২ জন পলাতক জঙ্গির মধ্যে চারজন বাংলাদেশি আছে বলে দাবি করছে ভারতের তদন্ত সংস্থা। এই ১২ জঙ্গির মধ্যে পাঁচজনের জন্য ১০ লাখ রুপি, তিনজনের জন্য পাঁচ লাখ এবং বাকি চারজনের জন্য তিন লাখ রুপি করে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২ অক্টোবর বোমা বানাতে গিয়ে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে নিহত হন শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল নামের দুই জঙ্গি। ভারতের পুলিশের বরাত দিয়ে সে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়, তাঁরা বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
তবে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বর্ধমানের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশিদের জড়িত থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কোনো তথ্য র‌্যাবের কাছে নেই। তবে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে র্যাব সম্প্রতি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্ধমানের ঘটনায় সরকারিভাবে কোনো তথ্য তাঁদের কাছেও নেই। তিনি মনে করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশি হিসেবে যে জঙ্গিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে সেগুলো তাঁদের আসল পরিচয় নয়। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা এমনিতেই অনেকগুলো নাম ব্যবহার করেন। যদি তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই তাঁদের একটি স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে। সেই জঙ্গিদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পেলে সেগুলো যাচাই করে তাঁদের আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ 
এদিকে বিবিসির খবরে বলা হয়, বর্ধমানের বিস্ফোরণের তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ ও তদন্তকারীরা যে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছেন, বাংলাদেশের মাটিতে তাঁদের সত্যিই কত বড় হামলা ঘটানোর ক্ষমতা ছিল তা নিয়ে সন্দেহ ক্রমেই বাড়ছে। ওই জঙ্গি নেটওয়ার্কের যে লোকবল, অর্থবল বা অস্ত্র সম্ভারের হদিস পাওয়া গেছে সেটাও একটা বড় মাপের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না বলেই ধারণা করছেন এএনআইয়ের সূত্রটি। 
এদিকে বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার কথিত প্রধান হোতা সাজিদের ১২ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত। গতকাল বিকেলে সাজিদকে আদালতে তোলা হলে তাঁকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এনআইএর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এএনআইয়ের দেওয়া ১২ জনের তালিকার একজন সাজিদ বাংলাদেশি বলে দাবি করে এনআইএ। তাঁকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কলকাতার বিধাননগর পুলিশ গত শনিবার দুপুরে সাজিদকে গ্রেপ্তার করে।
বর্ধমানের ঘটনায় গত শুক্রবার সুজিনা বেগম ওরফে সিরজিয়া বানু নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আসামের পুলিশ। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, গতকাল সুজিনাকে গুয়াহাটির মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত দেওয়া হয়। ভারতের পুলিশের দাবি, সুজিনাও বাংলাদেশের নাগরিক। পুরস্কার দেওয়ার জন্য ঘোষিত ১২ জনের তালিকায় সুজিনার স্বামী শাহানুরের নামও ছিল।

No comments:

Post a Comment