Pages

Thursday, October 23, 2014

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন লতিফ

২৬ অক্টোবর ইসলামী দলসমূহের হরতাল

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ কেন বাতিল করা হবে না, এ ব্যাপারে দল থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন তিনি। দল ও সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দপ্তর থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস বলেন, শুক্রবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হবে।
দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, আগামীকাল শুক্রবার কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে। লতিফ সিদ্দিকী কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিলেও এর ব্যত্যয় হবে না।
১৪ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বাড়ির ঠিকানায় সাত দিনের সময় দিয়ে ডাকযোগে নোটিশ পাঠায় আওয়ামী লীগ। পরদিন তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নোটিশটি গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কারণ দর্শানোর নোটিশটি লতিফ সিদ্দিকীর কাছে তাঁর একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ই-মেইল করে পাঠিয়েছেন। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করেও ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত লতিফ সিদ্দিকীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী পবিত্র হজ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর তাঁকে মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
হরতাল: লতিফ সিদ্দিকীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২৬ অক্টোবর রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’ নামের ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের একটি মোর্চা।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি পবিত্র হজ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার জন্য লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে ইন্টারপোলের সাহায্যে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা সরকারকে দুই দফা সময় দিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী হরতাল ঘোষণা ছাড়া বিকল্প নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মোবিন, মুসলিম লীগের (একাংশ) মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, শর্ষিনার পীর শাহ আরিফ বিল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ২৬ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানির তারিখ ধার্য আছে। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করবে বলে গত তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন।
ধর্মভিত্তিক ছোট কয়েকটি দল ও সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থক একাধিক সংগঠনও রয়েছে। তাই আদালতে খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার ধার্য তারিখে হরতাল ডাকার নেপথ্য কারণ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment