Saturday, October 25, 2014

জিম্বাবুয়ের প্রতিশোধ, নাকি আহত বাঘের থাবা?

কোচ স্টিভেন ম্যাঙ্গোঙ্গোর ভয়টা ছড়িয়ে পড়েছে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের মধ্যেও। ভয় বাঘের ডেরায় এসে বাঘের সঙ্গে লড়াই করার। এই ‘বাঘ’ মানে বাংলাদেশ দল। গত একটা বছর যদিও তাদের আচরণ একদমই বাঘসুলভ নয়, জিম্বাবুয়ে শিবিরে তার পরও আছে অজানা আতঙ্ক। আজ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু সিরিজটাতে কী জানি কী হয়!
বাংলাদেশে আসার পর কাল চতুর্থবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। বললেন সেই একই কথা—নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশ ভয়ংকর দল। বিশেষ করে ভয়টা তার বাংলাদেশি স্পিনারদের নিয়ে, ‘স্পিন সব সময়ই আমাদের জন্য বড় হুমকি। প্রথম টেস্টের জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা পুরোপুরিই ছিল বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মাথায় রেখে।’ তার মানে অবশ্য এই নয় যে বাংলাদেশ দলের পেস বোলার আর ব্যাটসম্যানদের পাত্তা দিচ্ছে না জিম্বাবুয়ে। টেলর বরং যোগ করলেন, ‘এই কন্ডিশনে তাদের ব্যাটিংটা হয় খুব ভালো। দলে ভালো কয়েকজন সিমারও আছে। তাদের তিনটি বিভাগ নিয়েই আমাদের ভাবতে হবে।’
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াই বরাবরই মর্যাদার। সেই সঙ্গে আরও কিছু উপাত্ত যোগ হওয়ায় এবারের সিরিজের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। গত এক বছরের ব্যর্থতার গ্লানি ভোলার ব্যাপার তো আছেই, জিম্বাবুয়েকে টেস্ট সিরিজে হারাতে পারলে এক ধাপ ওপরে ওঠা যাবে টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়ে। তা ছাড়া এই প্রথম বাংলাদেশে হওয়া কোনো সিরিজে থাকছে ডিআরএস। সাফল্যের ন্যূনতম সম্ভাবনাটুকুও যেন কারও ভুলে নষ্ট না হয়ে যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। নিজেদের মাটির সিরিজে তাই জয়ের বিকল্প ভাবছে না বাংলাদেশ। কাল সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলা টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কথায়ও ব্যাপারটা স্পষ্ট, ‘প্রথম টেস্টের প্রথম সেশন এবং প্রথম বল থেকেই আমরা প্রস্তুত। এ রকম সুযোগ সব সময় আসে না। আমরা যে কতটুকু ভালো খেলার জন্য প্রস্তুত, সেটা সবার শরীরী ভাষা বা অনুশীলন দেখেই বুঝতে পারছি।’
হোম সিরিজ বলে বাংলাদেশের একটা সুবিধা এমনিতেই পাওয়ার কথা। তবে বাংলাদেশে খেলে খেলে এই কন্ডিশনে এখন জিম্বাবুয়েও কম অভ্যস্ত নয়। বিপিএল আর ঢাকা লিগে খেলার সুবাদে এখানকার জল-হাওয়ার সঙ্গে ভালোই পরিচিত দলের অনেক ক্রিকেটার। কাগজে-কলমে নিজেদের ফেবারিট মেনেও তাই সতর্ক মুশফিক, ‘আমরা কাগজ-কলমে ফেবারিট, এটা বললে ভুল হবে না। তবে ওদের ছয়জন খেলোয়াড় কিন্তু গত এক বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলে গেছে। তারা ভালোও খেলেছে। সেদিক থেকে বলব, তারাও কিন্তু আমাদের কন্ডিশনে অভ্যস্ত।’
কিউরেটরকে স্পিনারদের উইকেট বানাতে বলেও বাংলাদেশের ১৪ জনের স্কোয়াডে চার পেসার কেন, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। তবে একাদশে দুজনের বেশি পেসার থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। সাকিব-তাইজুলের সঙ্গে অভিষেক হয়ে যেতে পারে নবাগত লেগ স্পিনার জুবায়েরের। দলের কাঠামোটা শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে, তা অবশ্য চূড়ান্ত হবে আজ সকালে উইকেট দেখার পর। তবে সেটা যাই হোক, বোলারদের ওপর আস্থা রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দুই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য নাকি আছে তাঁর বোলারদের। পাল্টা হুমকি আছে টেলরের দিক থেকেও, ‘আমাদের অভিজ্ঞ কয়েকজন পেস বোলার আছে, যারা পরের দিকে রিভার্স সুইং করাতে পারে।’
বাংলাদেশের স্পিনে ঘূর্ণি বেশি তো জিম্বাবুয়ের ধার বেশি পেস বোলিংয়ে। পার্থক্য আছে ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যেও। তবে এই সিরিজে একটা জায়গায় দুই দলই মিলেছে সমান্তরালে—তিন টেস্টের সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই কারোরই! আর টেস্ট ম্যাচের এই বেজোড় সংখ্যা বলে দিচ্ছে, সিরিজ ড্র হওয়ার চেয়ে ফল আসার সম্ভাবনাই এখানে বেশি।
শেষ পর্যন্ত সেই ফলটা কাদের দিকে হেলবে? বাংলাদেশের মাটিতে প্রায় ১০ বছর পর টেস্ট খেলতে এসে ১০ বছর আগের প্রতিশোধ নেবে জিম্বাবুয়ে? নাকি বছরজুড়ে ধুঁকতে থাকা আহত বাঘ বছরের শেষে নখর মেলবে প্রবল হুংকারে! গরিবের ‘অ্যাশেজ’টা উত্তর খুঁজবে এসব প্রশ্নেরই।

No comments:

Post a Comment