৪৮৯ রানের লক্ষ্য, করতে হবে আরও ৩৭৫ রান। হাতে ৮ উইকেট। সামনে এক দিনেরও বেশি সময় থাকলেও বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ নয়। সেন্ট লুসিয়া টেস্টটাকে কাল চতুর্থ দিনে যে জায়গায় নিয়ে ছেড়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেখান থেকে আপাতদৃষ্টিতে দুটি ফলাফলই কেবল সম্ভব—হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতবে, নয়তো বাংলাদেশ।
সমস্যা হলো, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই চতুর্থ ইনিংসে এত রান করে জয়ের ঘটনা নেই। আর বাংলাদেশ এই সফরে যে ব্যাটিং করছে, তাতে এ নিয়ে আলোচনা করাটাও হাস্যকর পর্যায়ে পড়বে। তবে কাল চা-বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ব্যাটিং করল, তাতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে টেস্টটা পঞ্চম দিনে যাবে, অন্তত সে আশাটা করাই যাচ্ছিল। প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে অলআউট হওয়ার পর এটাও বা কম কী! হঠাৎ আসা বৃষ্টিতে এদিন চা-বিরতিটা হয়ে গিয়েছিল নির্ধারিত সময়ের মিনিট পঁচিশেক আগেই।
চতুর্থ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বেঁধে দেওয়া ৫২১ তাড়া করে ৪১৩ রান করে ফেলার নজির আছে বাংলাদেশ দলের। এই সফরে ব্যাটিংয়ের যা দুর্দশা, তাতে অবশ্য অত বড় আশা না করাই ভালো। তবে লাঞ্চের সোয়া এক ঘণ্টা আগে ব্যাটিংয়ে নেমে লাঞ্চের আগেই ৪৮ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে নতুন আশা দেখাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক। চা-বিরতিতে দলের রান ২ উইকেটে ১১৪। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৬ রানে অবিচ্ছিন্ন দুজনে। ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তামিম ১৩১ বলে ৪৩ রান করে উইকেটে। সঙ্গী মুমিনুল অপরাজিত ৩১ রানে। মুমিনুল অবশ্য ব্যক্তিগত ২৯ রানে জোরোম টেলরের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন ব্রাভোর পিচ্ছিল হাতের সৌজন্যে।
শুরুতে ওপেনার শামসুর রহমান তাড়াহুড়াটা না করলে বাংলাদেশ হয়তো আরেকটু ভালো অবস্থানে থাকত। তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৪৭ রানের মধ্যে ৩৯-ই শামসুরের! টেলরের করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে পুলে চার। পরের বলেও ব্যাকফুটে গিয়ে পুল, এবার স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা। একই জায়গা দিয়ে ছক্কা মারলেন এর পরের বলেও। এটা ঠিক যে এই টেস্টে ড্রয়ের চেষ্টা করে লাভ নেই। হারার আগে করতে হবে জয়ের চেষ্টাটাই। কিন্তু শামসুর যেন একটু বেশিই ‘সিরিয়াস’ হয়ে গেলেন। টেলরের পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেও ঠিক একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন মিড উইকেটে। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১ রান যোগ হতেই এনামুলও কটবিহাইন্ড সুলিমান বেনের বলে।
আগের দিনের ৪ উইকেটে করা ২০৮ রান নিয়ে কাল চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের ১০ ওভার আর ৪০ মিনিট যাওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেন অধিনায়ক রামদিন। এই ১০ ওভারে যোগ হলো আরও ৬১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে রান ৭ উইকেটে ২৬৯। লিড ৪৮৮ রানের।
চন্দরপলের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৬৯ রানের জুটি গড়া ব্ল্যাকউড কাল দিনের ষষ্ঠ ওভারেই টেস্টে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি করে নেন। বাকি ছিল চন্দরপলের সেঞ্চুরি। মাহমুদউল্লাহর করা দিনের দশম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে সেটাও পূর্ণ করে টেস্টে ৩০তম সেঞ্চুরি করা ১১তম ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন এই গায়ানিজ ক্রিকেটার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান করার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে গেলেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়।
টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে চন্দরপলের রানের গড় ১৪৯.৫০ হলেও এবারেরটিসহ সর্বশেষ দুই সিরিজে সেটি ৬২৪! এ দুই সিরিজের চার টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা তাঁকে আউট করতে পেরেছেন মাত্র একবার। তা-ও ২০১২-এর নভেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে অসুস্থ ছিলেন বলে দ্বিতীয় ইনিংসে চন্দরপল ব্যাট করতে নেমেছিলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ২০৩। এরপর খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৫০, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়নি। চন্দরপল ব্যাট করার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে গেছে এবারের প্রথম টেস্টেও। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ৮৫। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৮৪, দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত থেকেছেন ১০১ রানে। শেষ দিকে রামদিন হয়তো তাঁর সেঞ্চুরিটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। চন্দরপলের রানটা ১০০ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে ইনিংস ঘোষণা করে দেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এবার বাংলাদেশ দলের প্রাপ্তির খাতাটা হয়তো শূন্যই থেকে গেল। তবে বোলাররা চাইলে সেখানে টুকে রাখতে পারেন চন্দরপলের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাটা। আগের দিন ৬৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করে ‘ক্যারিবিয়ান ওয়াল’ বলেছিলেন, ‘তারা এই সিরিজে খুবই ভালো বল করছে। সে কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে। বলের গতিতে দারুণ বৈচিত্র্য ছিল এবং সেটাই তাদের বলগুলোকে খেলা কঠিন করে দিচ্ছিল।’
সমস্যা হলো, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই চতুর্থ ইনিংসে এত রান করে জয়ের ঘটনা নেই। আর বাংলাদেশ এই সফরে যে ব্যাটিং করছে, তাতে এ নিয়ে আলোচনা করাটাও হাস্যকর পর্যায়ে পড়বে। তবে কাল চা-বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ব্যাটিং করল, তাতে বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে টেস্টটা পঞ্চম দিনে যাবে, অন্তত সে আশাটা করাই যাচ্ছিল। প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে অলআউট হওয়ার পর এটাও বা কম কী! হঠাৎ আসা বৃষ্টিতে এদিন চা-বিরতিটা হয়ে গিয়েছিল নির্ধারিত সময়ের মিনিট পঁচিশেক আগেই।
চতুর্থ ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বেঁধে দেওয়া ৫২১ তাড়া করে ৪১৩ রান করে ফেলার নজির আছে বাংলাদেশ দলের। এই সফরে ব্যাটিংয়ের যা দুর্দশা, তাতে অবশ্য অত বড় আশা না করাই ভালো। তবে লাঞ্চের সোয়া এক ঘণ্টা আগে ব্যাটিংয়ে নেমে লাঞ্চের আগেই ৪৮ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে নতুন আশা দেখাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক। চা-বিরতিতে দলের রান ২ উইকেটে ১১৪। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৬ রানে অবিচ্ছিন্ন দুজনে। ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে তামিম ১৩১ বলে ৪৩ রান করে উইকেটে। সঙ্গী মুমিনুল অপরাজিত ৩১ রানে। মুমিনুল অবশ্য ব্যক্তিগত ২৯ রানে জোরোম টেলরের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন ব্রাভোর পিচ্ছিল হাতের সৌজন্যে।
শুরুতে ওপেনার শামসুর রহমান তাড়াহুড়াটা না করলে বাংলাদেশ হয়তো আরেকটু ভালো অবস্থানে থাকত। তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৪৭ রানের মধ্যে ৩৯-ই শামসুরের! টেলরের করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে পুলে চার। পরের বলেও ব্যাকফুটে গিয়ে পুল, এবার স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা। একই জায়গা দিয়ে ছক্কা মারলেন এর পরের বলেও। এটা ঠিক যে এই টেস্টে ড্রয়ের চেষ্টা করে লাভ নেই। হারার আগে করতে হবে জয়ের চেষ্টাটাই। কিন্তু শামসুর যেন একটু বেশিই ‘সিরিয়াস’ হয়ে গেলেন। টেলরের পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেও ঠিক একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন মিড উইকেটে। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১ রান যোগ হতেই এনামুলও কটবিহাইন্ড সুলিমান বেনের বলে।
আগের দিনের ৪ উইকেটে করা ২০৮ রান নিয়ে কাল চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের ১০ ওভার আর ৪০ মিনিট যাওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেন অধিনায়ক রামদিন। এই ১০ ওভারে যোগ হলো আরও ৬১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে রান ৭ উইকেটে ২৬৯। লিড ৪৮৮ রানের।
চন্দরপলের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৬৯ রানের জুটি গড়া ব্ল্যাকউড কাল দিনের ষষ্ঠ ওভারেই টেস্টে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি করে নেন। বাকি ছিল চন্দরপলের সেঞ্চুরি। মাহমুদউল্লাহর করা দিনের দশম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে সেটাও পূর্ণ করে টেস্টে ৩০তম সেঞ্চুরি করা ১১তম ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন এই গায়ানিজ ক্রিকেটার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান করার ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে গেলেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়।
টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে চন্দরপলের রানের গড় ১৪৯.৫০ হলেও এবারেরটিসহ সর্বশেষ দুই সিরিজে সেটি ৬২৪! এ দুই সিরিজের চার টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা তাঁকে আউট করতে পেরেছেন মাত্র একবার। তা-ও ২০১২-এর নভেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে অসুস্থ ছিলেন বলে দ্বিতীয় ইনিংসে চন্দরপল ব্যাট করতে নেমেছিলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ২০৩। এরপর খুলনা টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৫০, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে হয়নি। চন্দরপল ব্যাট করার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে গেছে এবারের প্রথম টেস্টেও। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ৮৫। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৮৪, দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত থেকেছেন ১০১ রানে। শেষ দিকে রামদিন হয়তো তাঁর সেঞ্চুরিটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। চন্দরপলের রানটা ১০০ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে ইনিংস ঘোষণা করে দেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এবার বাংলাদেশ দলের প্রাপ্তির খাতাটা হয়তো শূন্যই থেকে গেল। তবে বোলাররা চাইলে সেখানে টুকে রাখতে পারেন চন্দরপলের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাটা। আগের দিন ৬৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করে ‘ক্যারিবিয়ান ওয়াল’ বলেছিলেন, ‘তারা এই সিরিজে খুবই ভালো বল করছে। সে কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে। বলের গতিতে দারুণ বৈচিত্র্য ছিল এবং সেটাই তাদের বলগুলোকে খেলা কঠিন করে দিচ্ছিল।’
সর্বশেষ
২৯৬ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের দল অলআউট ১৯২ রানে। কাল শেষ সেশনেই ৮ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৮০ ও ২৬৯/৪ (ডিক্লে),
বাংলাদেশ: ১৬১ ও ১৯২।
No comments:
Post a Comment