ফুলটস বল ছিল। জেরোম টেলর ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন দুই পা। কিন্তু শটটা যেভাবে খেলতে চাইলেন, ঠিক সেভাবে হলো না। ক্যাচ উঠে গেল লং অনে এবং সেটা লুফে নিতে কোনো ভুলই করেননি শুভাগত হোম চৌধুরী। তাঁর এই ক্যাচেই বলার মতো একটা কীর্তি হয়ে গেল তাইজুল ইসলামের।
আগের দিন এই আর্নস ভেলে ক্রেইগ ব্রাফেটও এমন একটা কীর্তি গড়েছেন। জর্জ হেডলি ও গ্যারি সোবার্সের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হয়ে গেছেন এই ওপেনার, যেটির কল্যাণে ৩ উইকেটে ৪০৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগের দিন এই আর্নস ভেলে ক্রেইগ ব্রাফেটও এমন একটা কীর্তি গড়েছেন। জর্জ হেডলি ও গ্যারি সোবার্সের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হয়ে গেছেন এই ওপেনার, যেটির কল্যাণে ৩ উইকেটে ৪০৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট নিয়ে কীর্তি গড়লেন তাইজুলও। তাঁর এই কীর্তির শুরু কাল ওই ব্রাফেটকে ফিরিয়েই। টেস্টের প্রথম দিনেই ২ উইকেট নেওয়া ছিল। কাল দিনের তৃতীয় ওভারে তাঁকে প্যাডল সুইপ করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দিলেন ব্রাফেট। আগের দিনের ২০৫ রানের সঙ্গে আর মাত্র ৭ রানই যোগ করতে পেরেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সম্ভবত লক্ষ্যই ছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কোরর্বোডে কিছু রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়া। ৭ উইকেটে ৪৮৪ রান করার পর সেটাই করলেন অধিনায়ক দিনেশ রামদিন। তৃতীয় দিনে ব্যাট করালেন মাত্র ৪৫ মিনিট। উইকেটে এসেই তেড়েফুঁড়ে মারতে গেছেন সবাই। পরিণতি, মাত্র ৫৭ রানে পড়েছে ৪ উইকেট। ইনিংস ঘোষণার আগে ১৭ ওভার ব্যাট করে আগের দিনের ৪০৭ রানের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ করেছে আর ৭৭ রান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। ১৮ রানেই ২ উইকেট নেই। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কেমার রোচের আউটসুইংয়ে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ব্রাভোর ক্যাচ হলেন তামিম। ২ ওভার পর বিদায় ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসেরও। টেলরের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলেন ওই ব্রাভোর হাতেই। দুজনের কেউই যেতে পারলেন না দুই অঙ্কের ঘরে। তৃতীয় উইকেটে শামসুর-মুমিনুল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। দুজনের মধ্যে ৬১ রানের একটা জুটিও হলো। কিন্তু কাল যেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেই নেমেছিলেন! সুলেমান বেনের বলে আগের দুই ব্যাটসম্যানের মতো শামসুরও (৩৫) স্লিপে ফিল্ডার ব্রাভোর তালুবন্দী। দলের ৮০ রানে শামসুর আউট হওয়ার পর যেন খেই হারিয়ে ফেললেন মুমিনুলও। টেস্টে নিজের চতুর্থ ফিফটিটা পূর্ণ করলেও লম্বা করতে পারেননি ইনিংসটা। ৫১ রান করে পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলেই হয়ে গেছেন কট বিহাইন্ড।
মুমিনুলের আউটের সঙ্গে সঙ্গেই চা-বিরতি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১০৫। ফলোঅন এড়াতে দরকার ছিল আরও ১৮০। ৬ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
শুধু রান আর উইকেটের কথা বলেই বাংলাদেশের ব্যাটিং-বেদনাটা পুরোপুরি বোঝানো যাবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসারদের বাউন্স না বুঝে শামসুর রহমান যেভাবে হেলমেটে আর শরীরে বল লাগালেন, তাতে প্রেসবক্সেই তাঁর প্রতি সহানুভূতি জানানো ‘ইশ্..ওহ্’ শব্দ শোনা যাচ্ছিল, ড্রেসিংরুমের অবস্থা নিশ্চয়ই ছিল আরও বেদনাকাতর।
অথচ এর আগে কালকের আর্নস ভেল মেতে ছিল তাইজুল-উসৎবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে ৪ উইকেট পড়েছে কাল, তার তিনটিই তাইজুলের। শুধু জারমেইন ব্ল্যাকউডের উইকেটটা গেছে রুবেল হোসেনের দখলে। তা-ও আম্পায়ারের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত প্রথমে মানতে পারেননি ব্ল্যাকউড। রিভিউ চেয়েছিলেন। পরে টেলিভিশন রিপ্লে দেখেও আম্পায়াররা আউটেরই সিদ্ধান্ত দেন।
ব্রাফেটকে ফেরানোর পর রামদিন আর টেলরের উইকেটটিও নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল যেন ২০০৯-এর সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টের কথাই মনে করিয়ে দিলেন! সেবারও এ মাঠে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কাল মাঠে দাঁড়িয়েই মাহমুদউল্লাহ দেখলেন আরও একজন অভিষিক্তের কীর্তি। প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়ার পর সতীর্থদের মধ্যে সবার আগে তাইজুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চয়ই আলাদাভাবেই অভিনন্দন পেয়েছেন এই তরুণ।
বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার তাইজুল। এর আগে এই কীর্তিটা আছে নাঈমুর রহমান, মঞ্জুরুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, ইলিয়াস সানি ও সোহাগ গাজীর। তবে তাইজুল মনে রাখার মতো এই টেস্টটা শেষ পর্যন্ত কতটা তৃপ্তি নিয়ে শেষ করতে পারেন, তার অনেকটাই নির্ভর করছিল ব্যাটসম্যানদের ওপর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সম্ভবত লক্ষ্যই ছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কোরর্বোডে কিছু রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়া। ৭ উইকেটে ৪৮৪ রান করার পর সেটাই করলেন অধিনায়ক দিনেশ রামদিন। তৃতীয় দিনে ব্যাট করালেন মাত্র ৪৫ মিনিট। উইকেটে এসেই তেড়েফুঁড়ে মারতে গেছেন সবাই। পরিণতি, মাত্র ৫৭ রানে পড়েছে ৪ উইকেট। ইনিংস ঘোষণার আগে ১৭ ওভার ব্যাট করে আগের দিনের ৪০৭ রানের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ করেছে আর ৭৭ রান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। ১৮ রানেই ২ উইকেট নেই। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কেমার রোচের আউটসুইংয়ে কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ব্রাভোর ক্যাচ হলেন তামিম। ২ ওভার পর বিদায় ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসেরও। টেলরের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিলেন ওই ব্রাভোর হাতেই। দুজনের কেউই যেতে পারলেন না দুই অঙ্কের ঘরে। তৃতীয় উইকেটে শামসুর-মুমিনুল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। দুজনের মধ্যে ৬১ রানের একটা জুটিও হলো। কিন্তু কাল যেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেই নেমেছিলেন! সুলেমান বেনের বলে আগের দুই ব্যাটসম্যানের মতো শামসুরও (৩৫) স্লিপে ফিল্ডার ব্রাভোর তালুবন্দী। দলের ৮০ রানে শামসুর আউট হওয়ার পর যেন খেই হারিয়ে ফেললেন মুমিনুলও। টেস্টে নিজের চতুর্থ ফিফটিটা পূর্ণ করলেও লম্বা করতে পারেননি ইনিংসটা। ৫১ রান করে পেসার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলেই হয়ে গেছেন কট বিহাইন্ড।
মুমিনুলের আউটের সঙ্গে সঙ্গেই চা-বিরতি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১০৫। ফলোঅন এড়াতে দরকার ছিল আরও ১৮০। ৬ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
শুধু রান আর উইকেটের কথা বলেই বাংলাদেশের ব্যাটিং-বেদনাটা পুরোপুরি বোঝানো যাবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসারদের বাউন্স না বুঝে শামসুর রহমান যেভাবে হেলমেটে আর শরীরে বল লাগালেন, তাতে প্রেসবক্সেই তাঁর প্রতি সহানুভূতি জানানো ‘ইশ্..ওহ্’ শব্দ শোনা যাচ্ছিল, ড্রেসিংরুমের অবস্থা নিশ্চয়ই ছিল আরও বেদনাকাতর।
অথচ এর আগে কালকের আর্নস ভেল মেতে ছিল তাইজুল-উসৎবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যে ৪ উইকেট পড়েছে কাল, তার তিনটিই তাইজুলের। শুধু জারমেইন ব্ল্যাকউডের উইকেটটা গেছে রুবেল হোসেনের দখলে। তা-ও আম্পায়ারের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত প্রথমে মানতে পারেননি ব্ল্যাকউড। রিভিউ চেয়েছিলেন। পরে টেলিভিশন রিপ্লে দেখেও আম্পায়াররা আউটেরই সিদ্ধান্ত দেন।
ব্রাফেটকে ফেরানোর পর রামদিন আর টেলরের উইকেটটিও নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল যেন ২০০৯-এর সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টের কথাই মনে করিয়ে দিলেন! সেবারও এ মাঠে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কাল মাঠে দাঁড়িয়েই মাহমুদউল্লাহ দেখলেন আরও একজন অভিষিক্তের কীর্তি। প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট পাওয়ার পর সতীর্থদের মধ্যে সবার আগে তাইজুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চয়ই আলাদাভাবেই অভিনন্দন পেয়েছেন এই তরুণ।
বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার তাইজুল। এর আগে এই কীর্তিটা আছে নাঈমুর রহমান, মঞ্জুরুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, ইলিয়াস সানি ও সোহাগ গাজীর। তবে তাইজুল মনে রাখার মতো এই টেস্টটা শেষ পর্যন্ত কতটা তৃপ্তি নিয়ে শেষ করতে পারেন, তার অনেকটাই নির্ভর করছিল ব্যাটসম্যানদের ওপর।
সর্বশেষ
অধিনায়ক মুশফিককে ৪৮ রানে অপরাজিত রেখে বাংলাদেশ অলআউট ১৮২ রানে। সুলিমান বেন নিয়েছেন ৫ উইকেট। ৩০২ রানে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফলোঅন করাবে নাকি নামবে ব্যাটিংয়ে, জানা যাবে আজ।

No comments:
Post a Comment