Thursday, September 18, 2014

অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে ভারতকে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই ও স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার দ্রুত সমাধানে ভারতকে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। নয়াদিল্লিতে ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারত জেসিসির বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। 
মাহমুদ আলী বলেন, চার দিনের নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে।
মাহমুদ আলী বলেন, জেসিসির বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরবেন তিনি।
এই সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব, নৌপরিবহনসচিব, বিদ্যুৎসচিব ও পানিসম্পদসচিব রয়েছেন। 
নয়াদিল্লিতে ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠকটি হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক। 
এ বৈঠকে তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি, সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া আন্তরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, পানিসম্পদ খাতে সহযোগিতা, জনগণের যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পরিবেশ খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে। 
এসব বিষয়ের মধ্যে পানিবণ্টনে সহযোগিতা বাড়ানো, রপ্তানি বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আন্তরাষ্ট্রীয় সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে সড়ক, রেল ও উপকূলীয় নৌ যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি যে অগ্রগতি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। 
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছে বলে দাবি করছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মতো অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের কথা বাংলাদেশ তুলবে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়গুলোর অবশ্যই নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। বিষয়গুলো তুলব।’
এ দুটি অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার দাবি বাংলাদেশ জানাবে কি না—জানতে চাইলে এ এইচ মাহমুদ আলী কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানান। 
বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভারতবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে না দেওয়ার ব্যাপারে ঢাকা সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করে আসছে। ভারতের কাছ থেকেও এ ধরনের অঙ্গীকার বাংলাদেশ চাইবে কি না—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করব, ভারতও একই ধরনের অঙ্গীকার করবে।’

No comments:

Post a Comment