Thursday, July 17, 2014

‘আমরা উড়াধুড়া দাম চাই না’

উত্তরায় ঈদ শপিং

‘আমরা উড়াধুড়া দাম চাই না। এইখানকার সব কাস্টমারই শিক্ষিত। বেশি প্যাঁচাল পাড়তে কেউ চায় না। বিক্রি যা হয় মন্দ না।’— ‘গুলিস্তান, নিউমার্কেট কিংবা গাউছিয়ার চেয়ে আপানাদের মার্কেটের পার্থক্য কী’ জানতে চাইলে হামিদুল ইসলাম নামের একজন দোকানি এমন মন্তব্য করেন। তিনি রাজধানীর উত্তরার রাজউক কমর্শিয়াল কমপ্লেক্সের একজন দোকানি। 
ঢাকা শহরের জনবহুল এলাকা হতে দূরে নিরিবিলি আবাসিক এলাকা। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের আবাসস্থল হিসাবে এই এলাকাটি গড়ে তোলে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে উত্তরা এখন উচ্চবিত্তদেরও নিরিবিলি আবাসভূমি। তাদের উদ্দেশ করেই ঢাকা-গাজীপুর মূল সড়কের আবদুল্লাহপুর, আজমপুর, খিলক্ষেত এলাকাতে গড়ে উঠেছে নানা নামের সব বিপণি বিতান। যেমন: পলওয়েল সেন্টার, মাসকট প্লাজা, নর্থ টাওয়ার, বেলী কমপ্লেক্স, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, আলাউদ্দিন টাওয়ার, আমির কমপ্লেক্স, লন্ডন প্লাজা, রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স, এস বি প্লাজা, খিলক্ষেতের রাজউক টাওয়ার প্রভৃতি বিপণি বিতানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। সবগুলো বিপণি বিতানই কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বেশ ছিমছাম।

ঈদ উপলক্ষে এসব বিপণি বিতানগুলোর বাইরে আলোকসজ্জা, ভেতরের নানা রঙের কাপড় সজ্জিত করা হয়েছে। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সব  বিপণি বিতানেই রয়েছে নানা ছাড় ও পুরস্কার। 
এসব বিপণি বিতানগুলোর মূল ক্রেতা উত্তরা, ওল্ড ডিওএইচএস, নিউ ডিওএইচএস এবং সেনানিবাসের অধিবাসী। তবে মাঝে মাঝে বিদেশিরাও এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। এমন একজন ক্রেতা মেরি থমাস। যিনি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরাতে থাকেন। ঈদ নয়, এমনিতেই কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বিভিন্ন জিনিস কিনতে প্রায়ই তাঁরা এসব মার্কেটে আসেন। তাঁর মতে, দাম হাতের নাগালে।
সাদিকুর রহমান। উত্তরার কমার্স কলেজে পড়েন। তিনি এসেছেন রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স। জিনসের প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে ফিরে যাচ্ছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই এলাকাতে আছি। এখানেই শপিং করি। যে যানজট—ঢাকায় যাব, না ভাই।’ 
আবদুর রহিম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, ‘বিদেশগামীরা সবচেয়ে বেশি কাপড়-চোপড় ও ব্যাগ কেনেন। কিন্তু বিদেশে লোক বেশি না যাওয়ায় বেচা-কেনা তেমন নেই। তবে ঈদ উপলক্ষে বেচা-কেনা বাড়ছে।’
শুধু বিশাল বিপণি বিতান নয়। আজমপুরে ওভারপাসের নীচে ঢাকার গুলিস্তান এবং পল্টন মোড়ের মতো ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট ও ঈদের প্রধান পরিধেয় পাঞ্জাবি। হালিমুল ইসলাম একজন ক্রেতা, যিনি পেশায় রিকশা চালক। বললেন, ‘আমরা টঙ্গি বাজার থেকে কেনাকাটা করি। পছন্দ হলে এখান থেকেও কিনি।’   

No comments:

Post a Comment