Thursday, July 17, 2014

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে সংসদ!


উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের (অপসারণ) ক্ষমতা আবারও জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ যেসব দেশে সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা দেওয়া আছে, সেসব দেশের সংবিধান খতিয়ে দেখাসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ কাজের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছে ছিল। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা বিচার বিভাগের কাছে ন্যস্ত হয়। এতে বলা হয়, বিচারপতিদের অভিশংসনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে পারবেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আইন কমিশনও বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে। এ জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করেছে। জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন করার অনুচ্ছেদ (আর্টিকেল) ছিল। কিন্তু সামরিক সরকার ক্ষমতায় এসে তা বদলে ফেলে। এর পরিবর্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করে। এখন আমরা যা করছি তা হলো অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ যেসব দেশে সংসদের হাতে অভিশংসনের ব্যবস্থা আছে তা খতিয়ে দেখছি।’ তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হোক এমন সিদ্ধান্ত নেবে না, তবে এখানে জবাবদিহির প্রশ্ন আছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ মুহূর্তেই সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদকে ফিরিয়ে দিতে বাহাত্তর সালের সংবিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে বলা হয়, সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন করার ক্ষমতাও সংসদের থাকা উচিত। কয়েকজন মন্ত্রী এ প্রস্তাবে সমর্থন দেন।
এ ছাড়া সাংসদেরা দীর্ঘদিন থেকেই বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার পক্ষে। বিগত মহাজোট সরকারের সময়ে এ দাবি আরও জোরালো হয়। বিশেষ করে ২০১২ সালে তৎকালীন স্পিকার ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি সংসদে তোলেন কয়েকজন সাংসদ। তখন সংসদে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা বা অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে।
সূত্র আরও জানায়, মহাজোট সরকারের সময়ে নিহত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফটোকপি হাইকোর্টের একজন বিচারপতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিদের কক্ষে দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত হয়।
তবে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা করা ঠিক হবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রায় ৬০ ভাগ সাংসদ ব্যবসায়ী। এখানে আইন প্রণয়নে গড়ে পাঁচ-সাত মিনিটের বেশি আলোচনা হয় না এবং আইনবিদ সাংসদের সংখ্যা আঙুলে গোনা যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদ্যোগ বিচক্ষণতার পরিচায়ক হবে না।

No comments:

Post a Comment