Pages

Saturday, July 26, 2014

আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ


যুবলীগের নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও চারটি থানাকে চিঠি দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ দুজন যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য বিমানবন্দরের বহির্গমন শাখায়ও চিঠি দেওয়া হয়।
সিআইডির সূত্র জানায়, এঁদের একজন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু। অন্যজন ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম ওরফে আরিফ। মামলার এজাহারে থাকলেও র্যাবের দেওয়া অভিযোগপত্রে এ দুজনের নাম ছিল না।
গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কীকে রাজধানীর গুলশানের একটি বিপণিকেন্দ্রের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার দৃশ্য ওই বিপণিকেন্দ্রের নিরাপত্তা ক্যামেরায় (সিসি ক্যামেরা) ধরা পড়ে। ওই রাতেই উত্তরার একটি ক্লিনিক থেকে ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) যুগ্ম সম্পাদক এস এম জাহিদ সিদ্দিকী ওরফে তারেকসহ ছয়জনকে আটক করে র্যাব। ধারণ করা দৃশ্য দেখে র্যাব জানায়, রিয়াজুলকে গুলিবর্ষণকারী ছিলেন তারেক। ঘটনার সময় তাঁর আরেক সহযোগীর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে অসতর্কতার কারণে ছুটে আসা একটি গুলি তারেকের পিঠে লাগে। সে জন্যই তিনি ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। দুই দিন পর গত বছরের ৩১ জুলাই ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন তারেক। অভিযোগ ওঠে আধিপত্য বিস্তার, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর রিয়াজুলের ভাই মেজর রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে তারেক, আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুল, যুবলীগের নেতা ওয়াহিদুল, ঢাকা মহানগর যুবলীগের (উত্তর) সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন ওরফে চঞ্চলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে র্যাব। ঘটনার পর বিদেশে পালিয়ে যান যুবলীগের নেতা শাখাওয়াত। ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুল ও যুবলীগের নেতা ওয়াহিদুল।
প্রায় আট মাস তদন্তের পর ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় র্যাব-১। অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত আসামি শাখাওয়াতসহ তিনজন ও এজাহারের বাইরে থাকা সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে জাহিদুল, ওয়াহিদুলসহ কয়েকজনের নাম অভিযোগপত্রে না থাকায় ক্ষুব্ধ হন রিয়াজুলের পরিবার। গত ৯ জুন অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করে নিহত ব্যক্তির পরিবার। ১৭ জুন আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার নথিপত্র হাতে পায় সিআইডি। এ মামলায় বর্তমানে নয়জন কারাগারে আছেন।
যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি এ টি এম সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে এজাহারভুক্ত আসামি জাহিদুল ও ওয়াহিদুল আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। ঘটনার ব্যাপারে তাঁদের কাছ থেকে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। তাই তদন্তের স্বার্থেই এ দুজনকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে জাহিদুল উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
জাহিদুলের ঢাকার ও গ্রামের বাড়ির ঠিকানা অনুযায়ী ১২ জুলাই রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা ও ফেনী সদর থানায় চিঠি পাঠানো হয়। একই তারিখে ওয়াহিদুলকে গ্রেপ্তারের জন্য আদাবর থানা ও কুমিল্লার তিতাস থানায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১৩ জুলাই সব পুলিশ সুপার ও বিমানবন্দরের বহির্গমন শাখায় চিঠি পাঠানো হয়।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা সিআইডির চিঠি পেয়েছি। আদালত থেকে জাহিদুলের জামিনের কাগজপত্রও থানায় এসেছে। জামিনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর তিনি আদালতে যাবেন। আদালতই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জেলার এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।’ একই কথা বলেন, আদাবর থানার ওসি রুহুল আমিন ও ফেনী সদর থানার ওসি মাহবুব মোরশেদ।
তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘র্যাবের দেওয়া অভিযোগপত্র ও বাদীর দেওয়া নারাজি আবেদন আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগপত্র নিয়ে বাদীর অসন্তোষের কারণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।’
বিদেশে পলাতক শাখাওয়াতকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইন্টারপোলের সহায়তা নেবেন কি না, এ প্রশ্ন করলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সবকিছুই করা হবে।
মতিঝিলের সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, রিয়াজুল হত্যার পর কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন জাহিদুল। এর পর থেকে এলাকায় থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ঘটনার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি যুবলীগের নেতা ওয়াহিদুলকে।
যোগাযোগ করা হলে জাহিদুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘র্যাবের তদন্তে আমি অব্যাহতি পেয়েছি। সিআইডিতে মামলা যাওয়ার পর ভেবেছিলাম, আমাকে ডাকলে আমি যাব। কিন্তু দেখছি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাই জামিন নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘রিয়াজুলের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা ছিল না। অথচ তাঁর হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’
তবে রিয়াজুলের পরিবার দাবি করেছে, জাহিদুল, ওয়াহিদুলসহ কয়েকজন সুপরিকল্পিতভাবে তারেককে দিয়ে রিয়াজুলকে হত্যা করান। তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার পরও তাঁদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। তাই আদালতে নারাজি দিতে হয়েছে। এই পরিবারের আশা, সিআইডির তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে।

No comments:

Post a Comment