ভারতে ট্রেনের যাত্রীভাড়া ও পণ্যমাশুল বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ একসময় রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি।
আজ রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পার্লামেন্টকে এড়িয়ে বাজেট অধিবেশনের আগেই ট্রেনের যাত্রীভাড়া ও পণ্যমাশুল বাড়িয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির রেল মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মোদি সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল শনিবার দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আরজেডি, সিপিএমসহ বিরোধী দলগুলো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরনের ট্রেনের সব শ্রেণিতে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ হারে যাত্রীভাড়া বাড়ানো হয়েছে। পণ্যমাশুল বাড়ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।
২০১২ সালে বাজেট অধিবেশনের আগে তত্কালীন কংগ্রেস সরকার ২০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন। গত শুক্রবার সেই একই পথে হাঁটলেন মোদি নিজেও।
মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সদস্য দেরেক ওব্রিয়েন কথা বলেছেন। তবে তাঁর করা সমালোচনার ভাষা ততটা কড়া নয়। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি মমতাকে।
তৃণমূল নেত্রীর এই নীরবতার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি সরকারের সঙ্গে কোনো বিরোধে যেতে চাইছেন না তিনি। বরং রাজ্যের স্বার্থে মোদির সঙ্গে সমঝোতার দরজা খোলা রাখতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি মোদি সরকার নদীয়ায় একটি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স খোলার অনুমোদন দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মমতা এটা চাচ্ছিলেন। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মমতাকে কাছে টানার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment