রমনা বটমূলে বোমা হামলার দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঘোষিত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া গ্রামের নিহতদের স্বজনেরা। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে বাউফলের গাজী বাড়ির তিনজন ছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আল মামুন, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও জান্নাতুল ফেরদৌসী শিল্পী। তাঁরা চাচাতো ভাইবোন।
রায় শোনার জন্য সকাল থেকেই গাজী বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন আশপাশের লোকজন। নিহত আল মামুনের মা নূরজাহান বেগম (৭০) রায় শোনার জন্য ঘরে টেলিভিশনের সামনে অধীর অপেক্ষায় বসে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্য স্বজনেরাও। রায় শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে যান সন্তানের কবরে, মোনাজাত করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত মামুনের বাবা কাসেম গাজী (৮০) বলেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষা করেছি এই রায়ের জন্য। আজ রায় হলো। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি, কবরে যাওয়ার আগে যেন এই রায় কার্যকর দেখে যেতে পারি।’
মামুনের বড় ভাই মাসুদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সহায়তা দেওয়ার কথা, তা আমরা পাইনি। ভাইসহ আমাদের বাড়ির তিনজনকে হারালাম। পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত মামুন, রিয়াজ ও শিল্পীর কবরের ইটও খসে পড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেখার কেউ নেই। তার পরও শান্তি পাব, যদি এই রায় দ্রুত কার্যকর হয়।’
এলাকার লোকজন বাউফলের নিহত তিনজনের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনকে আজ ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
No comments:
Post a Comment