Tuesday, January 27, 2015

কোকোর মরদেহ গুলশান কার্যালয়ের পথে

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ আজ মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহ কোকোর মা খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের দিকে নেওয়া হচ্ছে। 
বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কোকোর মরদেহবাহী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 
বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস স্পেশালিস্ট মাহমুদুল হাসান হিমেল প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোকোর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। একই বিমানে ঢাকায় এসেছেন কোকোর স্ত্রী, দুই মেয়ে, মামা শামীম এস্কান্দার ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী। মরদেহবাহী বিমানটি বাংলাদেশ সময় সকাল আটটার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। 
কোকোর মরদেহ বহনে বেলা ১১টার দিকে আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেটে ঢোকে। এই অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাঁর মরদেহ গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

কোকোর মরদেহ গ্রহণের জন্য বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা বিমানবন্দরে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফজলুল হক মিলন, গিয়াস কাদের চৌধুরী, আবদুল মান্নান প্রমুখ। তাঁরা বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেটের বাইরে অবস্থান করছিলেন। 
কোকোর মরদেহ আসা উপলক্ষে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও র‌্যাব। বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হন বিএনপির কয়েক শ কর্মী। তবে তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
গতকাল সোমবার রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিমানবন্দর থেকে কোকোর মরদেহ সরাসরি গুলশানে নেওয়া হবে। সেখানে কেবল পরিবারের সদস্যরা থাকবেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সেখানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। 
পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো দেখার পর কোকোর মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। সেখানে আজ বাদ আসর জানাজা হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আরাফাত রহমান অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। তাই রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জানাজায় অংশ নিতে আহ্বান জানান তিনি। 
আরাফাত রহমান গত শনিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন কুয়ালালামপুরে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রথমে চিন্তা ছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আরাফাত রহমানের জানাজা হবে। পরে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বায়তুল মোকাররমে জানাজার আয়োজন করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি কখনো বিএনপি বা অন্য কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এ কারণে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজার আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Sunday, November 23, 2014

শিক্ষক হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে আটকের দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম হত্যায় জড়িত অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে র‌্যাব। এঁদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী একজন যুবদল নেতা আছেন বলে র‌্যাব দাবি করছে।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলো কে এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক শফিউল হত্যায় সন্দেহভাজন ছয়জন আটক
র‌্যাবের দাবি, ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক, যুবদলের সদস্য পিন্টু, টোকাই বাবু, মামুন, কালু ও সবুজ।
১৫ নভেম্বর দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে চৌদ্দপাই এলাকায় নিজের ভাড়া বাড়ির কাছে অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ডিসেম্বরে ‘কার্যকর’ আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আন্দোলনে যেতে চায়। এবার স্বল্পমেয়াদি অথচ ‘কার্যকর’ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে দলটি। এ জন্য ৫ জানুয়ারি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে রেখে আন্দোলনে নামতে চায় তারা। তবে সফলতা নিয়ে এবারও দল ও জোটের ভেতরে সন্দেহ আছে।
আগামী ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হবে। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ওই দিনটি সামনে রেখে বড় ধরনের কর্মসূচিতে থাকতে চায় বিএনপি। তবে সেই কর্মসূচি কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে ইস্যুভিত্তিক হরতাল, বিক্ষোভ-সমাবেশ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনেই আছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আন্দোলনের একটি চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির যে নির্বাচন হয়েছে তা দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সবার জন্য মঙ্গলজনক।
বিএনপি ও জোটের সূত্র জানায়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর পর মাঠে নামতে চায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এবং পর্যায়ক্রমে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আন্দোলন তীব্র করতে চায়। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত গ্যাসের দাম বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগকে ইস্যু হিসেবে মাথায় রেখেছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপি মনে করছে, এটি জনসম্পৃক্ত একটি ইস্যু। এ ইস্যুতে মাঠে নামলে জনসমর্থন পাওয়া যাবে। আবার কর্মসূচিতে বাধা দিলে তা সরকারের বিপক্ষে যাবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গতকাল শনিবার জোটের বৈঠকে এ ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ডিসেম্বরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সমাবেশ করা আর নতুন দাম কার্যকরের সিদ্ধান্ত হলে হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে দুজন নেতা বলেছেন, সরকার যত সময় পাবে, তত শক্ত হবে। খালেদা জিয়াও বলেন, দ্রুত আন্দোলন শুরু করা হবে। জীবন দেওয়ার ডাক এলেও প্রস্তুত থাকতে হবে।
আলাপকালে ২০-দলীয় জোটের শরিক একটি দলের সভাপতি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বললেও আলোচনায় মনে হয়েছে, এবার তিনি শেষ করার জন্য শুরু করতে চান। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই শেষ করতে চান।
একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপদেষ্টা ও জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এবার তিনি কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন। সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠক এবং গত রাতে জোটের বৈঠকেও তিনি বলেছেন, কেউ না থাকলে তিনি একাই রাজপথে নামবেন। বিএনপির মধ্যে এ আলোচনাও আছে, রাজধানীতে দল এখনো সাংগঠনিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, গতিশীলতার অভাব আছে। তবে দলটির একটি অংশ আবার এও মনে করে যে, আন্দোলন শুরু হলে দ্বন্দ্ব থাকবে না। দলে গতিশীলতা ফিরে আসবে।